রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিং-এর অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয় সেগুনবাগিচায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ছিদ্দিকুর রহমান রাজউকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এবং পরবর্তী সময়ে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার এজেন্সির উচ্চ পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেন।
তথ্য অনুযায়ী, তার নামে ও সংশ্লিষ্টদের নামে খোলা ৫৭টি ব্যাংক হিসাবে ২০০১ সাল থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মোট ৮৮ কোটি ৮২ লাখ টাকার বেশি জমা হয়, এবং প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়। এসব ব্যাংক লেনদেনের মোট পরিমাণ ১৭৭ কোটি টাকারও বেশি, যা দুদকের তদন্তে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এ ছাড়া তিনি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ৩১ কোটি ২৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ অর্জন করেছেন, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ছিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-এর বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের মামলা অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং তদন্তে প্রমাণ মিললে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।
দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “অসাধু উপায়ে সম্পদ অর্জন এবং সেই সম্পদের উৎস গোপন রাখার অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। তদন্তে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।”
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ছিদ্দিকুর রহমানের সম্পদের উৎস, লেনদেনের প্রকৃতি, বিদেশে অর্থপাচারসহ অন্যান্য বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তার ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ এবং বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হতে পারে।
দুদক ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ভূমি রেকর্ড বিভাগ থেকেও তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। মামলার পরবর্তী ধাপে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
এই মামলাকে ঘিরে রাজউকসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থায় আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের অবস্থান আরও শক্ত হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে আসছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com