ঢাকা, ১০ অক্টোবর ২০২৫ রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আজ বিকেলে অনুষ্ঠিত এক গণতান্ত্রিক সমাবেশে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্যে ৪ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। গোল টেবিল বৈঠক আকারে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ ও পেশাজীবীরা অংশ নেন।
সভায় আলোচিত মূল প্রস্তাবগুলো ছিল-
১️⃣ আর্থিক ক্ষমতা সহ জেলাগুলোকে পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসন প্রদান, যাতে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে কেন্দ্রের উপর নির্ভরশীলতা কমে এবং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
২️⃣ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ তিন বছর নির্ধারণ, যাতে নেতৃত্বের জবাবদিহি ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
৩️⃣ প্রধান প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সর্বসম্মতিতে নির্বাচন কমিশন গঠন, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া হয় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য।
৪️⃣ দুর্নীতিমুক্ত ব্যবসা-বাণিজ্য নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, যার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশ পাবেন এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে উঠবে।
সভায় বক্তারা বলেন, এই চার দফা প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশে একটি কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পাবে, যা গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকারের আর্থিক স্বাধীনতা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা জাতীয় উন্নয়নের পূর্বশর্ত।
অর্থনীতিবিদরা তাদের বক্তব্যে বলেন, উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত না হলে দেশীয় অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত গতি পাবে না। তাই উদ্যোক্তা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।
সভায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে পারস্পরিক বিরোধিতা নয়, বরং সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয় স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের গঠন প্রক্রিয়ায় অংশীদারিত্বের নীতি গণতন্ত্রকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।
সভা শেষে বক্তারা চার দফা সংস্কার প্রস্তাব দ্রুত জাতীয় আলোচনার টেবিলে আনার আহ্বান জানান এবং একটি স্থায়ী “গণসংলাপ ফোরাম” গঠনের প্রস্তাব করেন, যাতে ভবিষ্যতে সংস্কারমূলক আলোচনাগুলো নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
আয়োজকরা জানান, এই গণতান্ত্রিক সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় রাজনীতিতে গঠনমূলক আলোচনার ধারা ফিরিয়ে আনা এবং দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে সংস্কারমুখী ঐক্য গড়ে তোলা।
সভা শেষে আয়োজক কমিটি ঘোষণা করে যে, আগামী মাসে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরেও অনুরূপ আলোচনা সভা ও সংলাপের আয়োজন করা হবে, যাতে সাধারণ নাগরিকরাও তাদের মতামত দিতে পারেন।
বৈঠকের সার্বিক পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ ও পরিপাটি, অংশগ্রহণকারীরা আলোচনায় গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণে নতুন আশার বার্তা দেখেছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক:- আমিনা খাতুন ইভা
নির্বাহী সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম ভিপি
All rights reserved ©2026 dailyaparadhchakra.com