হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার–এর অফিসে যে ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু নিন্দনীয় নয়—এটি রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও সভ্যতার জন্য এক ভয়াবহ অশনিসংকেত। দৈনিক সময়ের অপরাধ চক্র এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
প্রশ্ন হলো—একটি মৃত্যুর বিচার দাবি করা কি কখনো নিরীহ সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও শ্রমজীবী মানুষের কর্মস্থল ধ্বংস করার লাইসেন্স হতে পারে? যাদের হাতে কলম, ক্যামেরা ও সত্য তুলে ধরার দায়িত্ব—তাদের ওপর হামলা চালিয়ে কীভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব?
এই ভাঙচুরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সেই মানুষগুলো, যাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, কোনো অপরাধ নেই—আছে শুধু পরিবার চালানোর দায়। আজ তারা আতঙ্কিত, দিশেহারা, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। তাদের অপরাধ কী ছিল?
কেউ কেউ এই সহিংসতার পেছনে ‘এজেন্ট’, ‘গুপ্তচর’, ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’–এর কথা বলছেন। কিন্তু প্রকৃত সত্য উদঘাটন না করে, তদন্ত ছাড়া এমন অপবাদ ছড়িয়ে সহিংসতা উসকে দেওয়া আরও বিপজ্জনক। অপরাধের বিচার হবে আইনের মাধ্যমে—লাঠি, ইট-পাটকেল বা আগুন দিয়ে নয়।
আমরা দেখেছি, জামায়াত, এনসিপি, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে। এটি প্রমাণ করে—এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাতির বিবেক এখনো জাগ্রত। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—এই সহিংসতার ইন্ধনদাতা কারা? রাষ্ট্রযন্ত্র কি তবে তাদের থামাতে ব্যর্থ?
গণমাধ্যম কোনো শত্রু নয়। গণমাধ্যম ধ্বংস মানে সত্যের কণ্ঠ রোধ করা, গণতন্ত্রকে দুর্বল করা। যারা ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দিয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা কখনোই দেশের মঙ্গল চায় না।
দৈনিক সময়ের অপরাধ চক্র মনে করে—
অন্যায়কারী যে পরিচয়েরই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
সহিংসতা নয়, ন্যায়বিচারই হোক আমাদের পথ।
ভাঙচুর নয়, সংলাপ ও আইনের শাসনই হোক সমাধান।
এই আহ্বানেই আমরা বলি—
রুখে দাঁড়াও, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com