রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সামনে শাপলা চত্বরে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। সকাল প্রায় ১০টা ৫০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন গ্রাহক অংশ নেন।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী গ্রাহকদের দাবি, একীভূত হওয়ার পর তাদের কষ্টার্জিত সঞ্চিত অর্থ উত্তোলন এবং পূর্বে ঘোষিত মুনাফা পাওয়ার বিষয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের মুনাফা না দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ কারণে তারা ওই সিদ্ধান্ত বাতিল এবং নিজেদের জমানো অর্থ দ্রুত ফেরত পাওয়ার দাবি জানান।
গণঅবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত গ্রাহকরা বক্তব্য দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের সঞ্চয় জমা রেখেছেন। কিন্তু ব্যাংক একীভূত হওয়ার পর সেই আমানত এবং মুনাফা পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহক। তাদের মধ্যে ছিলেন এক্সিম ব্যাংকের গ্রাহক মিজানুর রহমান, ইউনিয়ন ব্যাংকের কক্সবাজার শাখার গ্রাহক আলিফ রেজা, ইউনিয়ন ব্যাংকের গ্রাহক জান্নাত বেগম, এক্সিম ব্যাংকের গ্রাহক মামুন হাসান এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের গ্রাহক মাহফুজসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘোষিত মুনাফা প্রদানের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তারা দাবি করেন, গ্রাহকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এদিকে আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি তুলে ধরেন। কর্মসূচি চলাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ নম্বর গেইট বন্ধ রাখা হয়। উপস্থিত গ্রাহকরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বক্তব্য দেন এবং তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
কর্মসূচির সময় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। প্রায় ৮ থেকে ১০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করেন এবং আন্দোলনকারীদের কার্যক্রমে নজরদারি রাখেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গ্রাহকদের দাবি ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, তাদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতে গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com