দেশে মাদকাসক্তির বিস্তার এবং এর ফলে মানসিক ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। সচেতন মহলের মতে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না; এটি একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকাসক্তির কারণে অনেক তরুণ-তরুণী তাদের স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি, কর্মক্ষমতা এবং মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। ফলে অপরাধ, পারিবারিক সহিংসতা, সামাজিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির মতো নানা সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, একটি রাষ্ট্রের চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ—প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ এবং গণমাধ্যম—নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। তাদের মতে, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে এবং সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
তারা আরও বলেন, “একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান একা সব দায়িত্ব পালন করতে পারে না। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি খাতের নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে। সবাই যদি নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে, তবে দেশকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটানোও সময়ের দাবি।
দেশের সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে মাদকবিরোধী আন্দোলনকে জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত করতে হবে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তম্ভকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনস্বার্থে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
উপসংহার:
মাদকমুক্ত, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনের জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার একযোগে কাজ করলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com