জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পোস্টগুলোর একটি। বহুপাক্ষিক কূটনীতির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই মিশনে সাধারণত অভিজ্ঞ, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কূটনীতিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এমন বাস্তবতায় সরকারের সাম্প্রতিক একটি নিয়োগ সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শানচিতা হককে জাতিসংঘে বাংলাদেশের নিউইয়র্কস্থ স্থায়ী মিশনের ডেপুটি পার্মানেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ (রাষ্ট্রদূতের মর্যাদায়) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি এর আগে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের ডেপুটি পার্মানেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তবে তাঁর এই নিয়োগকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশের ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ (UPR) চলাকালে সংঘটিত একটি বিতর্কিত ঘটনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই সময় মানবাধিকার কাউন্সিলের একটি সাইড ইভেন্টে শানচিতা হক সুইজারল্যান্ডে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে উপস্থিত হন। অভিযোগ রয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানবাধিকারকর্মী ও বক্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে শানচিতা হক প্রায় ১২ মিনিট বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যে তিনি উপস্থিত কয়েকজন বক্তার পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী আদিলুর রহমান খানেরও কঠোর সমালোচনা করেন। পরবর্তীতে তাঁর বক্তব্যের ভিডিও মানবাধিকার কাউন্সিলের তৎকালীন সভাপতির কাছে অভিযোগ হিসেবে জমা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি মানবাধিকারকর্মীদের ঘিরে ধরে মৌখিকভাবে হেনস্তা করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শানচিতা হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বর্তমান সরকারের এ ধরনের নিয়োগ সিদ্ধান্ত নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, অতীতে বিতর্কের মুখে পড়া কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বহালের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। ফলে সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাদারিত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
এদিকে বিষয়টি ঘিরে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের সঙ্গে এই নিয়োগ কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ? আন্তর্জাতিক পরিসরে এটি কী বার্তা দেবে? নাকি অভিজ্ঞ ও বিতর্কমুক্ত কূটনীতিকের সংকট থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?
এসব প্রশ্নের বিষয়ে জানতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শানচিতা হকের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
তবে কূটনৈতিক মহলে এ নিয়োগ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক:- আমিনা খাতুন ইভা
নির্বাহী সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম ভিপি
All rights reserved ©2026 dailyaparadhchakra.com