এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী ও সরকারি সহায়তা কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেছেন, “ত্রাণ ও সহায়তা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়, এটি জনগণের অধিকার। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দলীয় বিবেচনায় তালিকা তৈরি করে প্রকৃত দরিদ্রদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কিছু প্রভাবশালী মহল মিলে একটি পক্ষপাতদুষ্ট তালিকা তৈরি করছে, যেখানে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এতে করে প্রকৃত অসহায়, নিম্নআয়ের মানুষ এবং বিপদগ্রস্ত পরিবারগুলো ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, “এই ধরনের অনিয়ম শুধু মানবিকতার পরিপন্থী নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার। সরকার যদি দ্রুত এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে জনগণের আস্থা আরও কমে যাবে।”
তিনি অবিলম্বে একটি স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য তালিকা প্রণয়নের আহ্বান জানান এবং বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বিতরণ কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
এদিকে, বিভিন্ন এলাকায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, বারবার আবেদন করার পরও তারা কোনো সহায়তা পাননি। অনেক ক্ষেত্রে নাম তালিকায় থাকা সত্ত্বেও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের সময় তাদের ডাকা হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, ত্রাণ বিতরণে দলীয় প্রভাব বন্ধ করতে হলে কঠোর নজরদারি ও ডিজিটাল তালিকা ব্যবস্থাপনা চালু করা জরুরি। এতে করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং অনিয়ম কমে আসবে।
এই পরিস্থিতিতে, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি উঠেছে।
দেশের প্রান্তিক ও দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত বিভিন্ন কার্ড বিতরণে চরম দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম (এমপি)। তিনি বলেন, মাত্র কয়েক কেজি চাল বা ‘জেলে কার্ড’ দিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়। সরকারকে ‘কার্ডের খেলা’ বন্ধ করে তরুণ ও যুবসমাজের জন্য প্রকৃত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ রেল স্টেশন চত্ত্বরে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, হাওর অঞ্চলের উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির দুর্নীতি নিয়ে তিনি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, “এইসব কার্ড কি সত্যি দুস্থ মানুষের কাছে পৌঁছায়, নাকি কেবল ছাত্রদল, যুবদল বা আপনাদের দলীয় লোকদের পকেটে যায়? আমরা দেখেছি, সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা শুধু দলীয় লোকেরাই পায়, গরিব মানুষ পায় না।”
সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন রাখেন, “আপনাদের কি জেলে কার্ড দেওয়া হয়েছে?” উপস্থিত জনতা সমস্বরে “না” বলে উত্তর দিলে তিনি বলেন, “কয়েক কেজি চাল দিয়ে একজন মানুষকে কয়দিন বাঁচিয়ে রাখা যায়? এই কার্ডের খেলা বন্ধ করুন। প্রতিটি ঘরে শিক্ষিত-অশিক্ষিত তরুণ-তরুণী বেকার বসে আছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত না করলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।”
হাওর অঞ্চলের উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম বড় সম্পদ। এখানে মৎস্য ও পর্যটন শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এই অঞ্চলটি অবহেলিত। তিনি ঘোষণা দেন, হাওর অঞ্চলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ও মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের দাবিতে তিনি জাতীয় সংসদে সোচ্চার হবেন।
অর্থনীতির দুরবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দুর্নীতি ও লুটপাট কমিয়ে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তবেই সারা দেশে একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে উঠবে এবং তা পুরো বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।”
মোহনগঞ্জ রেল স্টেশন চত্ত্বরে আয়োজিত এই পদযাত্রা ও সমাবেশে এনসিপি’র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ স্থানীয় জাতীয় নাগরিক পার্টির অনেক সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক:- আমিনা খাতুন ইভা
নির্বাহী সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম ভিপি
All rights reserved ©2026 dailyaparadhchakra.com