চেক ডিজঅনার বা চেক সংক্রান্ত মামলায় উল্লিখিত আর্থিক দায় সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করা হলে এবং মামলার বাদী-বিবাদীর মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো কিংবা তাঁর কারাদণ্ড বহাল রাখা সমীচীন নয় বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সম্প্রতি চেক সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এমন অভিমত দেন হাইকোর্ট। আদালতের এ পর্যবেক্ষণে চেক ডিজঅনার মামলায় আর্থিক দায় পরিশোধ এবং পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের মূল বিষয় হলো—চেকের মাধ্যমে যে আর্থিক দায় সৃষ্টি হয়েছে, তা যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করে দেন এবং পাওনাদার পক্ষের সঙ্গে আইনসম্মতভাবে আপস-মীমাংসা হয়ে যায়, তাহলে ওই ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো বা তাঁর কারাদণ্ড বহাল রাখার যৌক্তিকতা নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আদালতের দৃষ্টিতে, চেক সংক্রান্ত মামলায় আর্থিক লেনদেনের বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে পক্ষগুলোর মধ্যে পরবর্তী সময়ে সংঘটিত আপস-মীমাংসার বিষয়টি উপেক্ষা করা সমীচীন নয়।
চেক ডিজঅনারের ঘটনায় অনেক সময় মামলা দায়েরের পর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আর্থিক লেনদেন মিটে যায়। পাওনাদার তাঁর পাওনা বুঝে পাওয়ার পরও যদি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়, তাহলে মামলার আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তির বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে—হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে এমন দৃষ্টিভঙ্গিই প্রতিফলিত হয়েছে।
তবে প্রতিটি মামলার নিজস্ব ঘটনা, প্রমাণ, আদালতের আদেশ এবং প্রযোজ্য আইনি বিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে। ফলে এই পর্যবেক্ষণকে সব চেক মামলায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজা বাতিলের নিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আইনজীবীরা মনে করছেন, চেক ডিজঅনার মামলায় আর্থিক দায় পরিশোধ এবং পক্ষগুলোর মধ্যে আপস-মীমাংসার বিষয়টি আদালতের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মামলা চলাকালীন সময়ে চেকের অর্থ সম্পূর্ণ পরিশোধ হয়ে গেলে সেই বাস্তবতা আদালতের সামনে উপস্থাপনের গুরুত্ব রয়েছে।
হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ চেক সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত ও বাদী—উভয় পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আদালতের সামনে প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
চেক ডিজঅনার মামলার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো চেকের মাধ্যমে সৃষ্ট আর্থিক দায়ের আইনগত প্রতিকার নিশ্চিত করা। সেই দায় যদি পরবর্তীতে সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করা হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের অবসান ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কারাদণ্ডের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে—হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে এমন বার্তাই পাওয়া যায়।
আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত চেক সংক্রান্ত মামলায় আপস-মীমাংসার আইনি গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদক:- আমিনা খাতুন ইভা
নির্বাহী সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম ভিপি
All rights reserved ©2026 dailyaparadhchakra.com