ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে শুরু হয়েছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচি ‘সাপ্তাহিক ক্লিনিং ডে’। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি আগামী তিন মাস প্রতি শনিবার পরিচালনার কথা জানিয়েছে ডিএসসিসি।
কর্মসূচির আওতায় ওয়ার্ডভিত্তিক আবাসিক এলাকা, সড়ক, ড্রেন, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে জমে থাকা পানি ও বর্জ্য অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম চালানো হয়। জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় র্যালি ও লিফলেট বিতরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
৭৫ ওয়ার্ডে একযোগে পরিচ্ছন্নতার বার্তা
ডিএসসিসির তথ্যানুযায়ী, শুধু রাস্তা কিংবা ড্রেন পরিষ্কার করাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য নয়। বাসাবাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের স্থানে কোথাও পানি জমে আছে কি না—তা শনাক্ত করে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে পরিত্যক্ত ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, টায়ার, বালতি, ড্রামসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো অপসারণ ও পরিষ্কারের মাধ্যমে মশার প্রজননক্ষেত্র কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ওয়ার্ড ৫১ থেকে ৭৫—পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের খণ্ডচিত্র
ডিএসসিসির দক্ষিণাঞ্চলের ৫১ থেকে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডগুলোতেও কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, সড়ক, ড্রেন, খোলা জায়গা ও সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থলে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এ সময় কোথাও জমে থাকা পানি ও বর্জ্য অপসারণ, কোথাও মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
‘নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ি’—এই বার্তাকে সামনে রেখে ওয়ার্ড পর্যায়ে নাগরিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ নয়
ডিএসসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশক নিধনের ওষুধ প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। এডিস মশা যাতে বাসাবাড়ি ও ব্যক্তিগত স্থাপনায় বংশবিস্তার করতে না পারে, সে জন্য নাগরিকদের নিজেদের ঘর, ছাদ, বারান্দা, আঙিনা ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
ডিএসসিসির সাম্প্রতিক জরিপে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ও পানির আধারে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। ফলে নগরীর প্রতিটি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়টি ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
নাগরিক অংশগ্রহণই কর্মসূচির মূল শক্তি
ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, সিটি করপোরেশন সপ্তাহের সাত দিনই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাবে। পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি শনিবার ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নগরবাসীর প্রতি ডিএসসিসির আহ্বান—নিজ নিজ বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে এবং সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
পরিচ্ছন্নতা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়
একটি পরিচ্ছন্ন ও মশকমুক্ত নগর গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কারণ, বাসাবাড়ি ও ব্যক্তিগত স্থাপনার ভেতরে তৈরি হওয়া মশার প্রজননস্থল শুধু সরকারি অভিযানের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়।
তাই প্রতি শনিবারের *‘সাপ্তাহিক ক্লিনিং ডে’*কে শুধু একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান হিসেবে না দেখে নাগরিক সচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণের একটি নিয়মিত উদ্যোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছে ডিএসসিসি।
নিজের ঘর পরিষ্কার রাখি—আশপাশ পরিষ্কার রাখি।
পানি জমতে না দিই—এডিস মশার প্রজনন বন্ধ করি।
সম্মিলিত উদ্যোগে গড়ে তুলি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও মশকমুক্ত ঢাকা।
প্রকাশক ও সম্পাদক:- আমিনা খাতুন ইভা
নির্বাহী সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম ভিপি
All rights reserved ©2026 dailyaparadhchakra.com