স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ এবং ১৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে ফেনীতে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের জেলা সম্মেলন। শনিবার ফেনী শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে মাদরাসা শিক্ষকেরা অংশ নেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রফেসর ড. মাওলানা শাহজাহান মাদানী। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের ফেনী জেলা সভাপতি মাওলানা নুর মোহাম্মদ। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ড. আনোয়ার হোসেন মোল্লা, সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি ফারুক আহমাদ, যুগ্ম-সম্পাদক ড. সাইফুল ইসলাম রফিক, উপদেষ্টা অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভুইয়া এবং মুফতি আব্দুল হান্নান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন আল-জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইসমাইল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শাহজাহান মাদানী বলেন, “মাদরাসা শিক্ষকরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। অথচ তারা এখনো নানা বৈষম্যের শিকার। অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের পাওনা ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের ১৭ দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে, অন্যথায় আমাদেরকে রাজপথে নামতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, মাদরাসা শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একই শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত থাকা সত্ত্বেও স্কুল শিক্ষকদের তুলনায় মাদরাসা শিক্ষকরা বেতন, সুযোগ-সুবিধা ও পদোন্নতিতে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এটি শুধু অন্যায় নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নেও বাধা সৃষ্টি করছে। তাই দ্রুত এই বৈষম্য নিরসন করে সব শিক্ষককে সমান মর্যাদা ও সুবিধার আওতায় আনার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে মাদরাসা শিক্ষকদের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই তাদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না।
এ সম্মেলনে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শিক্ষক নেতারা উপস্থিত থেকে তাদের বক্তব্য দেন। তারা মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠান শেষে মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ তাদের দাবি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com