রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। জনপ্রিয় কমিশনার ও সমাজসেবক মোঃ শামসুল হুদা কাজল-এর কন্যা পুষ্প এবং সম্মানিত ব্যবসায়ী ও সমাজপতি মোঃ মনজু মিয়া-র পুত্র সুমন-এর এই অনুষ্ঠানে ছিল আনন্দ-উৎসবের এক অসাধারণ মেলবন্ধন। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা রূপ নেয় রঙিন উৎসবের অঙ্গনে।
আয়োজনের সূক্ষ্ম পরিকল্পনা ও নিখুঁত বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন মানিকনগরের সবার আস্থাভাজন এবং খোকা কমিউনিটি সেন্টারের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ব্যক্তি মোঃ আসাদুজ্জামান মাস্টার। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষ পরিচালনার কারণে অনুষ্ঠানটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে সাজসজ্জা, খাবার পরিবেশন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা- প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর সযত্ন তত্ত্বাবধান ছিল স্পষ্ট।
অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে থেকেই কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশ ভরে ওঠে আগত অতিথিদের পদচারণায়। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী মিলিয়ে প্রায় এক হাজার মানুষ একত্রিত হন এই গায়ে হলুদ উপলক্ষে। প্রবেশদ্বারেই অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। হাসি-আনন্দে মুখর ছিল প্রতিটি কোণ, যা অনুষ্ঠানের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
খোকা কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা সাজানো হয় নান্দনিক শৈল্পিকতায়। প্রবেশপথে রঙিন আলো, ফুলের মালা আর ব্যানার অতিথিদের মুগ্ধ করে। মঞ্চে রাখা হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জার নিদর্শন, যা একদিকে আধুনিকতার ছোঁয়া বহন করলেও অন্যদিকে গ্রামীণ সংস্কৃতির স্বাদও ফুটিয়ে তোলে। আলো-ঝলমলে পরিবেশে তরুণ-তরুণীরা ছবি তুলে আনন্দঘন মুহূর্ত স্মৃতিবন্দি করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক পর্ব। খ্যাতিমান শিল্পীরা গেয়েছেন গান, পরিবেশন করেছেন নৃত্য এবং দর্শকদের মাতিয়েছেন সুর-তাল-লয়ের মেলবন্ধনে। লোকসংগীতের আবহ থেকে শুরু করে আধুনিক গানের সঙ্গে নাচে অংশ নেন তরুণ শিল্পীরা। তাদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অতিথিরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী ঢোল-বাদ্য ও দলীয় নাচ সবাইকে মুগ্ধ করে।
অতিথিদের জন্য ছিল বর্ণাঢ্য খাবারের আয়োজন। সুস্বাদু বিরিয়ানি, কাবাব, তেহারি, দেশীয় পিঠা এবং নানা রকম মিষ্টি পরিবেশন করা হয়। খাবারের বৈচিত্র্য ও গুণগত মান নিয়ে অতিথিরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। অনেকে জানান, এই খাবারের আয়োজন অনুষ্ঠানটিকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
কন্যার পিতা কমিশনার মোঃ শামসুল হুদা কাজল মানিকনগরের একজন জনপ্রিয় নেতা, যিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষভাবে পরিচিত। অপরদিকে বরের পিতা মোঃ মনজু মিয়া একজন সম্মানিত ব্যবসায়ী ও সমাজপতি। দুই পরিবারের এই মিলন শুধু বিয়ের অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি এলাকায় সামাজিক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা জানান, এ ধরনের আয়োজন সমাজে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে। তারা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সুস্বাদু খাবার এবং নান্দনিক সাজসজ্জার প্রশংসা করেন। অনেকের মতে, পুষ্প ও সুমনের এই গায়ে হলুদ মানিকনগরের ইতিহাসে এক অনন্য সংযোজন হয়ে থাকবে।
শুধু একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি ছিল এক সামাজিক উৎসব। আলো-ঝলমলে সাজসজ্জা, গান-নাচের প্রাণবন্ত পরিবেশ ও অতিথিদের মিলনমেলা এলাকাজুড়ে উৎসবমুখরতা ছড়িয়ে দেয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, এমন আয়োজন শুধু আনন্দ দেয় না, বরং সমাজে একতা ও সুসম্পর্কের বার্তাও ছড়িয়ে দেয়।
পুষ্প ও সুমন-এর গায়ে হলুদের এই আয়োজন নিঃসন্দেহে সাম্প্রতিক সময়ে মানিকনগরের সবচেয়ে আলোচিত সামাজিক অনুষ্ঠানের একটি। অনুষ্ঠানটি কেবল দু’টি পরিবারের নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য হয়ে উঠেছিল আনন্দ-উৎসবের উপলক্ষ। আর এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মোঃ আসাদুজ্জামান মাস্টার, যার নিষ্ঠা ও অভিজ্ঞ পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয় সুশৃঙ্খলভাবে। অতিথিদের আনন্দ, খাবারের বৈচিত্র্য, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মনোমুগ্ধকর সাজসজ্জা মিলিয়ে এই আয়োজন মানিকনগরের মানুষের মনে দীর্ঘদিন ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com