জামালপুরের মাদারগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে বাদল মন্ডল (৫২) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের চরনগর মন্ডলবাড়ি এলাকার সমেজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে বাদল মন্ডল বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে বাঁশ কাটতে যান। এ সময় তিনি বুঝতে পারেননি সেখানে ভিমরুলের একটি বড় চাক ছিল। বাঁশে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গে ভিমরুলের ঝাঁক তার ওপর আক্রমণ চালায়। মুহূর্তের মধ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ডজনখানেক হুল ফোটায় ভিমরুলগুলো। হঠাৎ প্রচণ্ড ব্যথায় তিনি চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা গুরুতর দেখে দ্রুত জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। তবে সেখানে বিকেলেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
বাদল মন্ডলের চাচাতো ভাই মোখলেছ মিয়া বলেন, “ওখানে ভিমরুলের বাসা ছিল সেটা বাদল ভাই জানতো না। আমরা চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি তিনি মাটিতে পড়ে আছেন এবং সারা শরীরে অসংখ্য কামড়ের দাগ। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো গেল না।”
চরপাকেরদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন- কৃষক বাদল মন্ডল ভিমরুলের কামড়ে আহত হয়ে বিকেলে হাসপাতালে মারা যান। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়রা জানান, বাদল মন্ডল পেশায় কৃষক হলেও সংসারের দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন পরিশ্রমী ও আন্তরিক। হঠাৎ এ মৃত্যুতে পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও গভীর শোকাহত হয়েছেন।
প্রাণঘাতী ভিমরুলের আক্রমণে সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তারা বলেন, বর্ষাকালে ও শরতের শুরুতে ভিমরুলের প্রজনন বেড়ে যায়। এ সময় অসাবধানতাবশত তাদের বাসা বিরক্ত করলে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বাদল মন্ডলের মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের আবহ নেমে এসেছে। গ্রামের মানুষ তার পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে হঠাৎ এক দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী-সন্তানরা নিদারুণ কষ্টে পড়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com