রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মানুষের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রামপুরা, নবাবপুর ও লুৎফুর রহমান লেন (সুরিটোলা, বংশাল) এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই বিদ্যুৎ সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এক জায়গায় সংযোগ ঠিক করতে গিয়ে অন্য জায়গায় নতুন সমস্যা তৈরি হওয়ায় নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বিভাগের (ডিপিডিসি) কর্মচারীরা মেরামতের নামে অস্থায়ী সমাধান দিচ্ছেন। কোথাও ফিউজ ঠিক করলে কিছুদিনের মধ্যেই ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একদিন ভোল্টেজ সমস্যা ঠিক হলে আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এভাবে বারবার ত্রুটি তৈরি হওয়ায় মানুষ পড়ছে চরম ভোগান্তিতে।
এ বছর রাজধানীতে গরম আবহাওয়া তীব্র আকার ধারণ করেছে। দিনে-রাতে ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন ছোট শিশু ও বৃদ্ধরা। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশুরা ঘুমাতে পারছে না, গরমে কান্নাকাটি করছে। বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
রামপুরার গৃহবধূ নাসরিন আক্তার বলেন- গরমে ছোট ছেলেটা সারারাত ঘুমাতে পারে না। বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্যান বন্ধ হয়ে যায়, তখন পরিবারে সবাইকে জেগে থাকতে হয়। এভাবে প্রতিদিন কষ্টে থাকতে হচ্ছে।
শুধু পরিবার নয়, ব্যবসা ও শিক্ষা কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ছে। নবাবপুরে বহু দোকানদার অভিযোগ করেছেন, দিনের বেলা বিদ্যুৎ চলে গেলে বিক্রির কাজ ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীরাও অনলাইন ক্লাস বা পড়াশোনার কাজে সমস্যায় পড়ছে।
নবাবপুরের ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন- আমাদের এলাকায় প্রায়ই বিদ্যুৎ থাকে না। দোকানে ফ্রিজ চলে না, গ্রাহকরা বিরক্ত হয়ে চলে যায়। এতে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
লুৎফুর রহমান লেন (সুরিটোলা, বংশাল) এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে। হঠাৎ ভোল্টেজ বেড়ে যাওয়ায় ফ্রিজ, টেলিভিশন ও কম্পিউটার নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটছে। অনেকেই মেরামতের জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
[video width="848" height="474" mp4="https://dailyaparadhchakra.com/wp-content/uploads/2025/09/WhatsApp-Video-2025-09-24-at-3.57.18-PM.mp4"][/video]
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, “ফ্রিজে থাকা খাবার নষ্ট হয়ে গেছে। একদিকে বিদ্যুতের সমস্যা, অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতি। অথচ কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।”
বাসিন্দাদের মতে, বিদ্যুৎ বিভাগ সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য লোক পাঠালেও মেরামতের কাজগুলো হচ্ছে তড়িঘড়ি করে। কোনো জায়গায় তার জোড়া লাগানো হয়, কোথাও সাময়িক সরঞ্জাম বদল করা হয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেই। ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই আবারো নতুন সমস্যা দেখা দেয়।
রামপুরার স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন- ডিভিডিসির কর্মীরা ঠিকই আসেন। কিন্তু তাদের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। একদিন লাইন ঠিক করলে পরদিন অন্য জায়গায় নষ্ট হয়। এভাবে তো সাধারণ মানুষ শান্তি পাবে না।
বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবেই এ সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তারা মনে করেন, নিয়মিত তদারকি এবং অভিজ্ঞ কারিগর নিয়োগ দিলে পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে। পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পূর্ব প্রস্তুতি ও প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ করাও জরুরি।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন- সমস্যার বিষয়টি আমরা জানি। জনবল ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় সঠিকভাবে কাজ করা সম্ভব হয় না। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উন্নতির চেষ্টা চলছে।
রাজধানীর ভুক্তভোগীরা বলছেন, বিদ্যুৎ পরিষেবায় এ ধরনের অব্যবস্থাপনা চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। তারা এলাকাভিত্তিক নিয়মিত পরিদর্শন, উন্নত সরঞ্জাম ব্যবহার এবং প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান নিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সাধারণ মানুষের মতে, বিদ্যুৎ পরিষেবার ত্রুটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং এটি মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসা এবং জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এ সমস্যার দ্রুত সমাধান এখন সময়ের দাবি।
প্রকাশক ও সম্পাদক:- আমিনা খাতুন ইভা
নির্বাহী সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম ভিপি
All rights reserved ©2026 dailyaparadhchakra.com