জুম্ম ছাত্র-জনতার আহ্বানে চলমান অবরোধে টানা তিন দিন ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। চেঙ্গী স্কয়ার, শাপলা চত্বর, কলেজ গেইট, স্বনির্ভর ও জিরো মাইলসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা বাহিনী চেকপোস্ট বসিয়েছে। যারা চলাচল করছেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অবরোধের কারণে বিপাকে পড়েছেন পর্যটকরাও। শুক্রবার বেড়াতে এসে অনেকেই খাগড়াছড়িতে আটকা পড়েছেন। পর্যটক মো. কামাল হোসেন জানান, “আমরা ২৩ জন শনিবার ভোরে খাগড়াছড়িতে এসেছি। এরপর থেকে একরকম বন্দিই আছি। সাজেকে যেতেও পারিনি, ঢাকায় ফিরতেও পারছি না।”
রোববার গুইমারায় ১৪৪ ধারার মধ্যেই সংঘটিত সহিংস হামলায় তিনজন পাহাড়ি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। সংঘর্ষে মেজরসহ ১৩ জন সেনা সদস্য এবং গুইমারা থানার ওসিসহ ৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে চলমান অবরোধ শিথিলের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি। রোববার রাতে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সভাপতি অশোক মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তমাল দাশ লিটন বলেন, “রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে। এই ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করতে আমরা অবরোধ কর্মসূচি স্থগিতের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাই।”
তারা খাগড়াছির সিঙ্গিনালা এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসব পালনের লক্ষ্যে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান।
অবরোধ ও সহিংস পরিস্থিতিতে খাগড়াছড়িতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। নাগরিকরা স্বাভাবিক চলাচল ও নিরাপত্তার আশায় পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান কামনা করছেন।