বরগুনা জেলার নদী-নদীতে আজ (৩ অক্টোবর) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে শুরু হয়ে ২২ দিনের ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুতের উপর সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা। মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা ও প্রজাতির স্থায়িত্ব রক্ষার উদ্দেশ্যে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।
বরগুনা জেলার মোট ৩৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীনালার সব এলাকায় নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, মা ইলিশ যাতে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে সেজন্য নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে কঠোর নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। এরই মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সভা ও প্রচারণা কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসিন জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে জেলেদের সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কারও প্রতি ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধভাবে ইলিশ আহরণ, পরিবহন বা বাজারজাতকরণ বন্ধে যৌথ অভিযান চলবে।
এদিকে, চলতি মৌসুমে সাগরে ঘন ঘন লঘুচাপের কারণে জেলেরা কম মাছ ধরতে পেরেছেন। পাথরঘাটা বিএফডিসির তথ্যমতে, গত বছর ১-১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিক্রি হয়েছিল ৩৭৯ মেট্রিক টন ইলিশ। অথচ চলতি বছরে একই সময়ে বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩১৬ টন। ফলে জেলেরা অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় ৪৮ হাজার নিবন্ধিত জেলে বাধ্যতামূলকভাবে ঘরে বসে থাকবেন। সংসার চালাতে গিয়ে তারা যেন কষ্টে না পড়েন, সে লক্ষ্যে সরকার মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেওয়া হবে। জেলেরা আশা করছেন, সরকার সময়মতো এ সহায়তা বিতরণ করবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময় নদীতে অবৈধ ট্রলিং বা রাতের অন্ধকারে মাছ ধরার চেষ্টা করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। মা ইলিশ সংরক্ষণে সফল হলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা সফল হলে দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের সমৃদ্ধি ও টেকসই প্রজনন নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com