ভোলায় লঞ্চ মালিকদের অমানবিক আচরণ নিয়ে গভীর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ঢাকা থেকে ভোলাগামী একটি লঞ্চে সোমবার (২৪ নভেম্বর ২০২৫) রাতে ঘটে হৃদয়বিদারক ও লজ্জাজনক ঘটনা। স্বামীর মরদেহ নিয়ে ভোলার এক নারীকে শীতের রাতে লঞ্চের ছাদে বসেই ভোলায় ফিরতে হয়েছে—কেবলই মরদেহ পরিবহনের জন্য লঞ্চে কোনো নির্ধারিত ক্যাবিন না থাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লঞ্চ কর্তৃপক্ষ মরদেহ রাখার উপযুক্ত স্থান বা ক্যাবিন দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে বাধ্য হয়ে ওই নারী স্বামীর লাশ পাশে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে ছাদে বসে যাত্রা করেন। পুরো যাত্রাপথেই তিনি ছিলেন কান্নায় ভেঙে পড়া ও অসহায়।
ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভোলার সাধারণ মানুষ বিষয়টি “লঞ্চ মালিকদের অমানবিকতা ও অব্যবস্থাপনা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“ভোলা থেকে ঢাকায় যাত্রী পরিবহনে লঞ্চ মালিকরা প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা আয় করেন। কিন্তু একজন মৃত মানুষের মরদেহ আনার মতো সামান্য মানবিক জায়গাটিও তারা তৈরি করেনি—এটা ভোলাবাসীর জন্য অপমানজনক ও দুঃখজনক।”
সাধারণ মানুষের দাবি—
ভোলা–ঢাকা রুটসহ সব লঞ্চেই মরদেহ পরিবহনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট ক্যাবিন বা আলাদা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক, যাতে আর কোনো পরিবারকে এমন লজ্জাজনক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে না হয়।
এ ছাড়া ভোলাবাসী মনে করছেন, যোগাযোগব্যবস্থার ঘাটতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে এ ধরনের মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়ছে। তাই যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন ও অবহেলা প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে।
প্রতিবেদনের শেষাংশে স্থানীয়দের আহ্বান—
ভোলা–বরিশাল সেতুর দাবিতে চলমান আন্দোলনে আরও শক্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে দ্বীপ জেলা ভোলার মানুষ মানবিক ও ন্যায্য সেবা পেতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com