চট্টগ্রাম রোববার ৩১ মে, ২০২৬:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সরকার একটি নতুন কারাগার স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে এই প্রকল্পের জন্য এখনই কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।রোববার দুপুরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, একটি কুচক্রী মহল সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছেদ নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে। তিনি এসব গুজবে কান না দেওয়ার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গল সলিমপুর ও এর আশপাশের এলাকাকে অবশ্যই সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে। এখানে আর কোনো বিচ্ছিন্ন
[caption id="attachment_18027" align="alignleft" width="486"] জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চলবে, সাধারণ বাসিন্দা থাকছেন নিরাপদ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী”[/caption]
সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো এলাকাটিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে পরিকল্পিত উন্নয়নের অংশ হিসেবে কারাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর ধরে আলীনগর-জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত ছিল। আমরা পরিকল্পিত ও যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই এলাকাকে পুরোপুরি সন্ত্রাসমুক্ত করব। পাশাপাশি বেতুয়া ও চা-বাগান এলাকায়ও অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদ করা হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই চারটি অপরাধকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে এবং এগুলো নির্মূলের চেষ্টা চালানো হবে।
জুয়া নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৮৬৭ সালের জুয়া আইনের মাধ্যমে আধুনিক অনলাইন ও অফলাইন জুয়া কিংবা বেটিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এ সংক্রান্ত আইনি সংস্কার আনার চেষ্টা করা হবে।
[caption id="attachment_18032" align="alignright" width="547"] সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদ করা হবে, কিন্তু সাধারণ বাসিন্দাদের সরানো হবে না[/caption]
মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের বিষয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকসংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে হাজার হাজার মাদক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনের কিছু সুবিধা ও ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অনেক কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং পরবর্তীতে তারা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীতে পরিণত হচ্ছে। এ কারণে কিশোর অপরাধ মোকাবিলাতেও আইনি সংস্কার আনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইনি সংস্কার, পরিকল্পিত অভিযান এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও চাঁদাবাজিমুক্ত করার চেষ্টা করব। এর মাধ্যমেই যুবসমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।’
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com