পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সুরিটোলায় আয়োজিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য ঈদ আনন্দ মিছিল, যা পরিণত হয়েছিল এক মিলনমেলায়। সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।
ঢাক-ঢোল, ব্যানার-ফেস্টুন ও আনন্দঘন স্লোগানে মুখরিত এই মিছিলে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও অংশ নেন। পুরান ঢাকার সরু অলিগলি পেরিয়ে মিছিলটি সুরিটোলা এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
[caption id="attachment_16923" align="alignnone" width="855"] মিছিলে “ঢাকা সমিতি”সহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ[/caption]
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ঈদ কেবল আনন্দের নয়, এটি সাম্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়। সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে এই মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ এবং ঢাকা-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষায় এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয় এবং সমাজে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে কার্যকর।
মিছিলে “ঢাকা সমিতি”সহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল রঙিন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ঈদের শুভেচ্ছাবার্তা সম্বলিত ফেস্টুন।
এ সময় বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক বন্ধন ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। ঈদের মতো ধর্মীয় উৎসবগুলো সেই সুযোগ তৈরি করে দেয়, যেখানে মানুষ ভেদাভেদ ভুলে একসাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে।
আয়োজকরা জানান, এই ঈদ আনন্দ মিছিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। ভবিষ্যতেও তারা আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com