কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পুশ-ইনের শিকার হয়ে প্রায় ৭৭ ঘণ্টা শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন কাটানো ১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে অবশেষে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠক শেষে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।
জানা যায়, গত শুক্রবার (১২ জুন) ভোররাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হোগলবাড়িয়া থানার চরমেঘনা সীমান্ত দিয়ে ওই ১২ জনকে কুষ্টিয়ার প্রাগপুর সীমান্তের চরবিলগাথুয়া এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবিকে খবর দিলে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। এরপর থেকে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে আটকা পড়ে।
আটকে পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন নারী, চারজন পুরুষ এবং চারটি শিশু ছিল। শিশুদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স ১০ বছরের নিচে। তীব্র রোদ ও বৃষ্টির মধ্যে মানবেতর জীবনযাপনের পাশাপাশি শিশুদের শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটে। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের জন্য শুকনো খাবার ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ভুক্তভোগীদের অনেকেই নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত তিন দিন ধরে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল। বিজিবির পক্ষ থেকে বারবার পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হলেও প্রথম দিকে বিএসএফ তাতে সাড়া দেয়নি। পরে শনিবার ও সোমবার দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবারের বৈঠকে দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটে। বৈঠকে বিএসএফ ওই ১২ জনকে ফেরত নিতে সম্মত হয় এবং বেলা ১১টার দিকে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয়।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com