জামালপুরের কামালপুর সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্য সুমন। পুশ-ইন ইস্যুতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলি করার হুমকির মুখেও দৃঢ় অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান তিনি, যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সূত্র জানায়, পরিস্থিতি যখন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল, তখন ভয়ভীতি উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালনে অবিচল থাকেন সুমন। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়—যদি সত্যিই গুলি চালানো হতো, তাহলে তিনি কী করতেন? উত্তরে তিনি নির্ভীক কণ্ঠে বলেন, “আমার বাড়ি কিশোরগঞ্জ। আমার পরিবার আছে, কিন্তু তাদের চেয়েও আমার কাছে বড় আমার দেশপ্রেম এবং আমার পেশার প্রতি দায়িত্ববোধ। সেই কারণেই আমি প্রতিবাদ করেছি।”
তার এই বক্তব্য মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের সঞ্চার করে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাকে ‘সাহসের প্রতীক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
জানা গেছে, গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে তার সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, পেশাগত বিধিনিষেধের কারণে ক্যামেরার সামনে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবুও তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যই দেশের মানুষের কাছে এক শক্ত বার্তা পৌঁছে দিয়েছে—দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের কাছে দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমই সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্তে প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে বিজিবি সদস্যদের যে মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিতে হয়, সুমনের ঘটনা তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। কঠোর পরিস্থিতিতেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো—দেশপ্রেম শুধু একটি অনুভূতি নয়, বরং তা দায়িত্ববোধের সঙ্গে মিশে গেলে একজন মানুষকে অসাধারণ সাহসী করে তোলে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com