পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও নির্বাচনের মাঠে শক্ত অবস্থান নিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রকাশ্যে কঠোর ভাষায় নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কারের দাবি জানালেও, ভেতরে ভেতরে দলের প্রস্তুতি বেশ সুসংগঠিত। বিশেষত ৫ আগস্টের পর থেকেই দলটি নির্বাচনের জন্য পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করেছে।
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক দাবি সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদের আইনগত বৈধতা এবং সংখ্যানুপাতিক (PR) পদ্ধতির নির্বাচনের দাবিতে দলটি নানা কর্মসূচি পালন করছে। দলের শীর্ষ নেতারা বারবার এই পদ্ধতির নির্বাচন না হলে ভোট হতে দেবে না বললেও, মাঠে তাদের নির্বাচনি তৎপরতা বিরতিহীনভাবে চলছে।
প্রার্থিতা চূড়ান্ত ও তরুণ নেতৃত্ব
জামায়াত প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের ২৯০টিরও বেশি আসনে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই তরুণ, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির, শিক্ষিত ও ছাত্রশিবির থেকে উঠে আসা নেতাকর্মী। কেউ কেউ পারিবারিকভাবে শহীদ বা নির্যাতিত রাজনীতিবিদের সন্তান।
প্রসিদ্ধ প্রার্থীদের তালিকা
মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১) ও শামীম সাঈদী (পিরোজপুর-২) – দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্র।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ – পটুয়াখালী-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি।
ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাসেম আরমান – ঢাকা-১৪ আসনে প্রার্থী। মীর কাসেম আলীর পুত্র।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন – পাবনা-১ আসনে জামায়াতের মুখ্য প্রার্থী। সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীর পুত্র।
তরুণদের আধিপত্য
চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের প্রায় প্রতিটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ আসনে জামায়াত তরুণদেরকে সামনে এনে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে চাইছে। এসব প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশই ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি বা সেক্রেটারি ছিলেন।
উল্লেখযোগ্য কয়েকজন প্রার্থী:
ড. রেজাউল করিম (লক্ষ্মীপুর-৩)
ডা. ফখরুদ্দিন মানিক (ফেনী-৩)
ড. মোবারক হোসেন (কুমিল্লা-৫)
ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী (কুড়িগ্রাম-৩)
দেলাওয়ার হোসেন (ঠাকুরগাঁও-১)
আতিকুর রহমান (ঢাকা-১১)
গোলাম কিবরিয়া (শেরপুর-২)
শিশির মনির (সুনামগঞ্জ-২)
আতাউর রহমান সরকার (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪)
সালাউদ্দিন আইয়ুবী (গাজীপুর-৪)
আনোয়ারুল ইসলাম রাজু (লালমনিরহাট-১)
হারুনুর রশিদ (রংপুর-১)
প্রচারণা ও কৌশল
জামায়াত নেতারা গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে তারা দরজায় দরজায় ভোট চাইছেন। বিশেষভাবে দমন-পীড়নের ইতিহাস ও ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভোটারদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
দলটি আশা করছে, সংবিধান ও নির্বাচনি ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন সম্ভব না হলেও নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের রায় ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে পারবে। নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও, নির্বাচনের প্রতি দলটির প্রস্তুতি এখন পুরোদমে চলছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক:- আমিনা খাতুন ইভা
নির্বাহী সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম ভিপি
All rights reserved ©2026 dailyaparadhchakra.com