গত বছরের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আমূল পরিবর্তন আসে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এর প্রভাব পড়ে আওয়ামী লীগের নানা অঙ্গ-প্রতিষ্ঠানের ওপরও।
বিশেষভাবে দলটির গবেষণা ও প্রচার-প্রচারণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (সিআরআই) কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি আবারও সক্রিয় হচ্ছে—তবে এবার ভিন্ন কাঠামো ও নেতৃত্বে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির লুটিয়েন্স জোনের পাশে একটি দোতলা ভবন থেকে বর্তমানে সিআরআই-এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দায়িত্বে রয়েছেন শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলের (SEARO) পরিচালক পদ থেকে সাম্প্রতিককালে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে যাওয়া পুতুল বর্তমানে সিআরআই’র সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
সিআরআই’র দীর্ঘদিনের মুখ সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় এখন তার পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বে থাকা সম্ভব নয়। এ কারণে পুতুলকে সামনে এনে নতুনভাবে সাংগঠনিক রূপ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। দায়িত্ব হস্তান্তরের পেছনে শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশ ছিল বলে জানা গেছে।
সিআরআই বর্তমানে একটি সুসংগঠিত সাইবার প্রোপাগান্ডা ইউনিট হিসেবেও কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি ভিডিও, বেনামি ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার, বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি’র বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি:
অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করা
বিরোধী রাজনৈতিক জোটের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা
দেশ-বিদেশে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। টকশো, ইউটিউব, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের মাধ্যমে একটি সাংগঠনিক প্রচার-প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে, যা মূলত বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে উদ্দীষ্ট।
সিআরআই’র এই প্রোপাগান্ডা ইউনিট “প্রজন্ম ৭১”, “ব্রিগেড ৭১”, “নিউক্লিয়াস ৭১”, “জয়বাংলা ব্রিগেড”, “নয়া সংগ্রাম ২৫” সহ শতাধিক ফেসবুক ও ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। এই চ্যানেলগুলোতে নানা রকম ইতিহাস চর্চা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ব্যাখ্যা এবং বর্তমান সরকারের সমালোচনার ভেতর দিয়ে সাধারণ জনগণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
সবশেষ পরিকল্পনায় রয়েছে ঢাকায় বা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশাল সমাবেশ ঘটিয়ে রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তনের চেষ্টা। অন্তত ২০ লাখ কর্মী-সমর্থককে একত্রিত করে "ঢাকা অ্যাটাক" বা "যমুনা ঘেরাও"-এর মতো কর্মসূচির সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com