বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি জোরদার হচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে বড় দলের পাশাপাশি ছোট রাজনৈতিক দলগুলোও সক্রিয়, বিশেষ করে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা আসন ভাগাভাগির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে ব্যস্ত।
গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবার নির্বাচনের মাঠে নেই, তাই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। তবে বড় দুই দলের বাইরে ছোট দলগুলোও নিজেদের স্বকীয়তা ধরে রাখতে চাইছে।
বিএনপি ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের জন্য কিছু আসন ছেড়ে দেওয়া হবে, যারা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। এই নীতির আলোকে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের বিভিন্ন শরিক দল নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গণতন্ত্র মঞ্চের কয়েকজন শীর্ষ নেতা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন— জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব লক্ষ্মীপুর-৪ থেকে, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-৪ থেকে, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক ঢাকা-৮ থেকে প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এছাড়া ১২ দলীয় জোটের শরিকরা বিভিন্ন আসনে প্রার্থী হিসেবে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিএনপির নীতিমালা অনুসারে, ইসলামপন্থী দল যেমন খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম যদি ইসলামী জোটে যোগ দেয়, তবে তাদের জন্য আসন ছাড়ার সুযোগ থাকবে না।
ছোট দলগুলোর নেতারা আত্মবিশ্বাসী যে, বিএনপির আসন ভাগাভাগির নীতি বাস্তবায়িত হলে তাদের জয়ও নিশ্চিত হবে। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরা নির্বাচনের পর একত্রিত হয়ে সরকার গঠন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ থাকলে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জয় সম্ভাবনা প্রবল, তাই ছোট দলগুলো আসন পেতে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে। আসন বন্টনের সিদ্ধান্তে বড় দল বিএনপির হাইকমান্ডের ভূমিকা নির্ধারক হবে।
তবে একথাও স্পষ্ট যে, ভোটের মাঠে বড় দল নয়, ছোট দলের নেতারা এবার সত্যিই ‘কোমর বেঁধে’ লড়াইয়ে নামছেন। তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও দলীয় শক্তি বজায় রাখার লড়াই এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com