সমস্যা কয়টি?আলোচিত পিআর নাকি পুরনো পদ্ধতি? যা নাকি ইভিএম নাকি রাতের ভোটের পূণরাবৃত্তি? নাকি ক্ষমতা কুক্ষিগত করে মনোনীতকে ডিক্লারেশনে বিজয়ী ঘোষণা?
একটু উদাহরণ দিয়ে শুরু করি। মহিষ যখনই জবাই হয় না কেন তা যদি কসাইয়ের হাতে হলে যেমন মহিষের বংশ পরিবর্তন হয়ে যাওয়া একটি সাধারণ বিষয়! গরু তখন অবাক হলেও নির্বাক চিত্তে মেনে নিতে বাধ্য হয় একই কসাইখানার মাংস হিসেবে ঝুলে থাকতে।
তাই জনগণ গরু ভেবে যে মহিষের মাংস কিনে নিয়ে দিব্যি রাধুনির মশলার স্বাদ জীব পেতে শুরু করে অমনি ভুলে যায়, এটা আসলে কি গরু নাকি মহিষ ছিলো? যদি জেনেও ফেলে চতুর খাদক কোন জনগণ! তখন বলে- বাহ্ গরুর দামে ভালোই মহিষের মাংস খেলাম! যাক ভালোই হলো। এভাবে চলতে থাকলে দোষের কী?
তাই কা'হায়াত তার স্বজন প্রীতির মহা আধিপত্যে নিজেরই পুত্রকে নায়ক বানিয়ে ফেলে! যেন বুঝতেই পারে না কী অখাদ্য জনগণের হাতে তুলে দিচ্ছে অযোগ্যকে যোগ্যতার আসনে দিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে গিয়ে!
উৎভট আমদানি শুধু কাঁচা বাদাম গানেই নয়! এরকম আরো আছে যারা চ্যানেলের মালিক হয়েও গায়ক বনে যায়! আর হিরো আলম? ওর কথা তো বাদই দিলাম!
চলে আসি রাজনৈতিক অঙ্গনে ডাক্তার ইকবাল একসময়ের এমপি, প্রিয়িয়ার ব্যাংকের মালিক। তৎকালীন সময়ে তার মিছিল থেকেও প্রতিপক্ষের মিছিলে গুলি বর্ষণ হয়েছিলো। তিনি ছিলেন ডাক্তার! কিন্তু কবে কজন পেসেন্ট দেখেছেন এদেশের? যদি তিনি ডাক্তার হয়ে থাকেন এদেশের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তবে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ব্যাংকের মালিক হয়ে কি যোগ্য আসনটি লুফে নিয়েছেন? নাকি দেশ তাকে অর্থ লগ্নি করে একটা ডাক্তার বানিয়েছে শুধু তার ব্যক্তি স্বার্থের উন্নয়ন করার জন্য? এরকম আর কে কে আছে ভাবুন!
যে গান শুনিয়ে পার্লামেন্টে চাটুকারিতার সর্বচ্চো সদ্যব্যবহার করেছে, তার মমতাজ সিনেমা যদি জীবন ভিত্তিক কাহিনি থেকে রচিত হয়ে থাকে তবে "দুই টাকায় যাকে পাওয়া যেত" এমন ডায়লগ সম্মৃদ্ধ নারীর যোগ্য আসন কি আসলেই সংসদ সদস্য হওয়া পর্যন্ত?
যারা হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে ব্যাংকগুলো দেউলিয়া করে ফেলেছে, তাদের মৃত্যুদন্ড দেয়া হলে দেশ কি দেউলিয়া হবার ভয়ে এমন আইন পাস করে না? নাকি এভাবেই চলছে চলুক তাতে কী, জীবন তো যাচ্ছে।
রাজনীতি করতে করতে বয়সের গন্ডি পড়িয়ে যারা বাংলাদেশের গড় আয়ু অতিক্রম করে ফেলেছে! অথচ তাদের রাজনীতি করার বয়সের মেয়াদ বা অবসর কখনোই হয় না। এখনো তাদের সুপারিশে চাকুরী হয়৷ কী অবাক করার বিষয়! যারা চাকুরী খুঁজতে খুঁজতে চাকরীর বয়সটাই শেষ করে ফেলেছে তারা হচ্ছে বেকার! আবার বুক ফুলিয়ে সরকারের অন্য দপ্তর বলছে- " শিক্ষার কোন বয়স নেই! " আরে ভাই যে শিক্ষা বয়স ভিত্তিক চক্করে আটকে থাকে, সেই শিক্ষা গ্রহণ করে লাভ কী? এটা কী ধরনের মেধাবী খোঁজার অপচেষ্টা? দেখুন এমন অদ্ভুত আইন যারা সংসদে বসে পাশ করে, তাদের বয়সের কোন বাঁধা নেই!
প্রতিদিন যদি একজন দেশের দুর্নীতিবাজদের মৃত্যুদন্ড হয় তবে এদেশ থেকে কত বছর লাগবে প্রথম শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ নির্মূল করতে? ধরে নিলাম একশো বছর লাগবে। তবে কী এ দেশটা সোনার বাংলা শুধু অযথাই আমরা বলছি? কোনদিন দেখে যেতে পারবো না?
যারা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের কথা বলে বলে শুধু নিজের আর ব্যাংক ব্যালেন্সের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। তাদের অনেকেই মৃত্যু বরণ করছে এবং অনেক জেলে বসে নানা আলিশান দাবিতে জেলের জীবন কাটাতে চাইছে। কেউ কেউ মৃত্যু বরণ করে জানিয়ে দিচ্ছেন দুর্নীতি আর অপকর্মের শেষ পরিনতি কী?
অথচ তাদের কেউ কেউ পৃথিবীর সব বোঝে, সব জানে, শুধু পিআর জানে না! আমরাও জানি তারা হয়তো ভেজালে এতটাই অভ্যস্ত খাটির স্বাদ নিতেই জানে ন! তারা কি আসলে ঘুমিয়ে আছে? যদি ভাবেন আপনি তারা ঘুমিয়ে আছে তবে তারা বলবে আপনি ভুল ভাবছেন! যদি বলেন- সে জেগে আছে, তখন তারা বলবে- আমি কি মানুষ না? আমার কি ঘুমের দরকার নেই?
আসলে বিষয়টা এমনও হতে পারে, যদি ভাবেন- "নাই মা'র চেয়ে কানা মা ভালো"। আপনি ভাববেন এটাই তো ঠিক। এটাই তো যথার্থ বলেছে। আবার যদি শোনেন- "দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো"। তখন আপনি ভাববেন এটাই তো বেস্ট! এবার দুটো পাশাপাশি রেখে ভাবুন কোনটি করবেন?
যদি রাজনীতির বৈচিত্র্যে নতুনত্ব না আসে তবে আপনার আমার সিদ্ধান্ত কখনোই সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না। এ যেন এক বিশাল গোলকধাঁধা যেখানে নিজের অস্তিত্ব আবিষ্কার করাই কঠিন!
আর কে কার চেয়ে ভালো খুঁজতে খুঁজতেই আপনার আমার মগজ ধোলায় দিয়ে থাকে যেসব রাজনীতিবিদ তখন গণতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, স্বৈরাচারী, স্বৈরশাসক, ফ্যাসিষ্ট এসব বুঝতে বুঝতে আর তাদের মুখ থেকে শুনতে শুনতে নিজের মেধা- বুদ্ধি সব বিসর্জন দিয়ে আপনি আমি লাশ হলেও গণতন্ত্র আর দেশ রক্ষা হয় না। হয় শুরু এক গোলকধাঁধার পালাবদল!
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com