ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমে কারাগারের দরজা খুলে মুক্তি পান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বাংলাদেশ খুঁজে পায় জাতীয়তাবাদের নতুন দিশা। এই দিবস শুধু মুক্তির উৎসব নয়, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের জন্মলগ্ন।
১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দেশ অন্ধকারে ডুবে যায়। ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা। জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়। কিন্তু সেনাবাহিনীর তরুণ সিপাহীদের সঙ্গে সাধারণ জনতার অটুট ঐক্য গড়ে তোলে ঝড়। ঢাকার রাজপথে গর্জে ওঠে ‘জিয়া মুক্তি পাক’ স্লোগান। অল্প সময়ের মধ্যে কারাগারের শেকল ভেঙে বেরিয়ে আসেন তিনি। এই বিপ্লব ব্যর্থ করে দেয় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সব চক্রান্ত।
জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশ পায় নতুন দর্শন। তাঁর অমর উক্তি “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়” আজও জাতিকে পথ দেখায়। এই দর্শনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত এই দল দ্রুত গণমানুষের মুখপাত্রে পরিণত হয়। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার-সবখানেই বিএনপির পতাকা উড়েছে।
ইতিহাসের চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বিএনপি আজও জনগণের আস্থার প্রতীক। দলের শক্তি মানুষের নিরঙ্কুশ ভালোবাসা। দুর্নীতি, দুঃশাসন ও মানুষের অধিকারহরণের বিরুদ্ধে বিএনপি সোচ্চার। দলটি আবারও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু হবে-এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন নেতাকর্মীরা।
৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি। ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শহীদ জিয়ার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনা সভা ও র্যালি। স্থানীয় পর্যায়ে দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা। তরুণ প্রজন্মের কাছে জিয়ার আদর্শ ছড়িয়ে দিতে সামাজিক মাধ্যমে চলছে প্রচারণা।
শহীদ জিয়া শুধু একজন নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রতীক। তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা। দিবসটি সফল ও স্বার্থক হোক- এই প্রত্যাশা জাতির।
শহীদ জিয়া অমর হোন। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com