রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল রুটের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ রুটের ৪৬টি পিলারে বিভিন্ন মাত্রায় ফাটল (ক্র্যাক) এবং ২৭টি বিয়ারিং প্যাডকে গুরুতর বা ‘ক্রিটিক্যাল’ ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এসব ত্রুটির ঝুঁকি নিরূপণ, প্রয়োজনীয় মেরামত এবং প্রতিস্থাপনের কৌশল নির্ধারণে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এ কাজে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-কে স্ট্রাকচারাল কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, অডিট কমিটির প্রতিবেদনে মেট্রোরেলের ৭৩০টি বিয়ারিং প্যাডে ত্রুটি পাওয়া গেছে। তবে এসব ত্রুটির সবগুলো গুরুতর নয়।
প্রতিবেদনে ৪৯৭টি বিয়ারিং প্যাডের ত্রুটিকে ‘মাইনর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ২৯৭টি প্যাডের ত্রুটি মূলত স্থাপনের সময়কার ওয়ার্কম্যানশিপ-সংক্রান্ত বলে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, মাত্র ২৭টি ত্রুটিপূর্ণ বিয়ারিং প্যাডকে ‘ক্রিটিক্যাল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মেট্রোরেলের পিলার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি জানান, উত্তরা-মতিঝিল রুটের ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রায় ক্র্যাক বা ফাটল শনাক্ত হয়েছে।
এসব ফাটলের প্রকৃতি, গভীরতা ও কাঠামোগত ঝুঁকি নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের কৌশল নির্ধারণে বুয়েটকে স্ট্রাকচারাল কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে ফাটলগুলোর কারণে মেট্রোরেল অবকাঠামোর ওপর কোনো ধরনের কাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, তা নির্ধারণ করা হবে।
চিহ্নিত ২৭টি ক্রিটিক্যাল বিয়ারিং প্যাড প্রতিস্থাপনের জন্য আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে মেট্রোরেল অবকাঠামোর বিভিন্ন অংশে পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গত ১৬ জুলাই ২০২৬ ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) একটি ‘সুপারিশ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করেছে।
মেট্রোরেলের কাঠামোগত অবস্থা পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১০টি স্থানে স্টিল ব্র্যাকেট স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া ২৭টি স্থানে বিয়ারিং প্যাডের সেটেলমেন্ট পরিমাপের জন্য ‘সেটেলমেন্ট মার্কার’ বসানো হয়েছে।
এর মাধ্যমে বিয়ারিং প্যাডের অবস্থানগত পরিবর্তন বা বসে যাওয়ার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
পিলারগুলোর ফাটলের অবস্থা নিয়মিত পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণের জন্য ১০২টি স্থানে ‘স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক গেজ’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে এসব ক্র্যাক গেজ স্থাপনের কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মেট্রোরেল রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় এর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার।
চিহ্নিত ত্রুটিগুলোর মধ্যে কোনটি তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত বা প্রতিস্থাপন প্রয়োজন এবং কোনগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব—তা কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
বিশেষ করে ২৭টি ক্রিটিক্যাল বিয়ারিং প্যাড দ্রুত প্রতিস্থাপন এবং ৪৬টি পিলারের ফাটলের প্রকৃতি ও ঝুঁকি নিরূপণে বুয়েটের কারিগরি পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মেট্রোরেল ব্যবহারকারী বিপুলসংখ্যক যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব মেরামত, প্রতিস্থাপন ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক:- আমিনা খাতুন ইভা
নির্বাহী সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম ভিপি
All rights reserved ©2026 dailyaparadhchakra.com