আমাদের সমাজে অনেক কুসংস্কার এমনভাবে প্রোথিত হয়ে আছে, যেন সেগুলো ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে একটি ব্যাপক প্রচলিত ভুল ধারণা হলো— নারীর বাম চোখ লাফালে অশুভ কিছু ঘটতে চলেছে, স্বামীর আয়-রোজগারে টান পড়বে কিংবা প্রিয়জনের মৃত্যু বা বড় বিপদ আসন্ন। অথচ ইসলাম এ ধরনের কোনো বিশ্বাসের অনুমোদন দেয়নি। বরং কোরআন ও হাদিসে এসব কুসংস্কারের সুস্পষ্টভাবে প্রতিবাদ করা হয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলাম বাস্তববাদী ও সরল জীবনযাপনের উপর গুরুত্ব দেয়। কোরআন-হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মানবজীবনের প্রতিটি দিক আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন। কারও আয়-রোজগার কমে যাওয়া বা মৃত্যু— এসব বিষয় পূর্বনির্ধারিত। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
“কোনো প্রাণী আল্লাহর অনুমতি ছাড়া মারা যায় না, তা নির্দিষ্টভাবে লিখিত আছে।”
(সুরা আলে ইমরান : ১৪৫)
আবার রিজিক সম্পর্কে বলা হয়েছে,
“পৃথিবীর প্রত্যেক জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর। তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় মৃত্যুবরণ করবে। সব কিছুই এক সুবিন্যস্ত কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।”
(সুরা হুদ : ৬)
বিশেষজ্ঞ আলেমের মতামত
জামিয়া কৌড়িয়ার প্রধান মুফতি ও মুহাদ্দিস মাওলানা হেলাল আসহাব কাসেমি জানান,
“বাম চোখ লাফানো অশুভ— এমন ধারণা ইসলামে নেই। কোরআন-হাদিসে কোথাও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না যে, চোখের কাঁপন কারও রিজিক বা হায়াত কমিয়ে দেয়। এসব মনগড়া কথা, যা পরিত্যাগ করা আবশ্যক।”
তিনি আরও বলেন,
“রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করবে, যে বিষয়ে আমার অনুমোদন নেই, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।’ (মুসলিম : ১৭১৮)”
একইভাবে কোরআনে বর্ণিত হয়েছে,
“তারা বলল, তোমাকে ও তোমার সঙ্গীদের আমরা অমঙ্গলের কারণ মনে করি। সালেহ (আ.) বললেন, তোমাদের মঙ্গল-অমঙ্গল আল্লাহর হাতে। প্রকৃতপক্ষে, তোমরা এমন এক সম্প্রদায়, যাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে।”
(সুরা নমল : ৪৭)
একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে রাসুল (সা.) দোয়া করেছেন,
“হে আল্লাহ, আপনার মঙ্গল ছাড়া আর কোনো মঙ্গল নেই, আপনার পক্ষ থেকে সাব্যস্ত দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কোনো দুর্ভাগ্য হতে পারে না এবং আপনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই।”
(মুসনাদে আহমদ : ৭০৪৫)
চিকিৎসা ও দোয়ার পরামর্শ
মুফতি আসহাব কাসেমি বলেন,
“বাম চোখ বা শরীরের কোনো অঙ্গ বারবার লাফালে সেটিকে শারীরিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এটি হতে পারে চোখের সমস্যা বা নার্ভের দুর্বলতা। তাই সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে শিফার দোয়া করা উত্তম।”
ইসলামের দৃষ্টিতে কুসংস্কার একটি ভ্রান্ত বিশ্বাস। বাম চোখ লাফানো বা অন্যান্য দৈহিক অঙ্গ সঞ্চালনকে অশুভ লক্ষণ মনে করা ইসলামী শরিয়তের পরিপন্থী। বরং এসব সমস্যার পেছনে রয়েছে শারীরিক বা মানসিক কারণ, যার সমাধান রয়েছে চিকিৎসায় ও দোয়ায়—not কুসংস্কারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com