বর্তমান সময়ে অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের সরকারি চাকরিতে দেখতে আগ্রহী। কারণ এটি সামাজিক মর্যাদা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে আকর্ষণীয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ঘুষ ছাড়া চাকরি পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এমন বাস্তবতায় অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়া কি ইসলামে বৈধ? আর সেই চাকরির বেতন কি হালাল হবে?
ইসলামের দৃষ্টিতে ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া
ইসলামে ঘুষ দেওয়া ও গ্রহণ করা উভয়ই কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন—
"আল্লাহ তাআলা ঘুষ প্রদানকারী, গ্রহণকারী এবং মধ্যস্থতাকারীর ওপর অভিশাপ দিয়েছেন।"
(সুনান ইবনে মাজাহ: হাদিস ২৩১৩)
শরীয়তের আলোকে ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়ার বিধান
ইসলামিক স্কলারদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই বিষয়ে দুটি ভিন্ন পরিস্থিতি রয়েছে:
এই অবস্থায়, প্রার্থী যদি চাকরির জন্য সম্পূর্ণ যোগ্য হয় এবং ঘুষ ছাড়া চাকরি পাওয়া অসম্ভব হয়, তাহলে নিজের হক আদায়ের উদ্দেশ্যে বাধ্য হয়ে ঘুষ দেওয়া দোষের নয়। তবে এখানে গুনাহ হবে ঘুষ গ্রহণকারীর। আর যেহেতু প্রার্থী নিজের শ্রম ও দক্ষতার ভিত্তিতে চাকরি করছেন, তাই তার উপার্জন হালাল বলে গণ্য হবে।
ফিকহি উৎস: রদ্দুল মুহতার (৯/৬০৭), ফাতহুল কাদীর (৭/২৫৫)
এক্ষেত্রে শরীয়তের দৃষ্টিতে চাকরি গ্রহণ সম্পূর্ণরূপে হারাম। কারণ এটি একটি প্রতারণামূলক কাজ এবং সমাজে অন্যায্য প্রতিযোগিতার জন্ম দেয়। এভাবে অর্জিত চাকরির বেতনও হারাম হিসেবে বিবেচিত হবে।
হাদিস: "যে ঘুষ দেয় ও নেয়, উভয়ই দোজখী।" (মুসনাদে আহমদ: হাদিস ৬৮৩০)
ইসলামের দৃষ্টিতে ঘুষ একটি জঘন্য অপরাধ। তবে যদি কোনো প্রার্থী যোগ্য হয় এবং কেবল ঘুষ ছাড়া চাকরি না পাওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে ঘুষ দেয়, তাহলে ইসলাম কিছুটা ছাড় দিয়েছে—শুধুমাত্র নিজের হক রক্ষার স্বার্থে। কিন্তু অযোগ্য ব্যক্তি ঘুষ দিয়ে চাকরি পেলে তা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ এবং এর মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদও হারাম।
সমাজকে ঘুষমুক্ত করতে শুধু আইন নয়, প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা এবং ধর্মীয় সচেতনতা। আমরা যেন যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পাই এবং ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com