খুলনার কয়রায় এবারও শারদীয় দুর্গাপূজা ব্যাপক উৎসাহ, আনন্দ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব এই দুর্গাপূজা প্রতি বছরই কয়রার মানুষের জীবনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হওয়ার মাধ্যমে দুর্গাপূজার মঙ্গল শুরু হয় এবং এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর মহাপঞ্চমী থেকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে পূজার মহোৎসব শুরু হবে। ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী, ২৯ সেপ্টেম্বর মহা সপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বর মহা অষ্টমী, ১ অক্টোবর মহানবমী ও ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এই ধর্মীয় উৎসব সমাপ্তি ঘটবে।
কয়রা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানা গেছে, এবছর কয়রায় সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৫৪টি পূজা মণ্ডপে এই শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। প্রতিটি মন্দিরে সরকারিভাবে ৫০০ কেজি চাল অনুদান দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনে দুস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়। বর্ণিল আলোকসজ্জা ও নান্দনিক সাজসজ্জায় মণ্ডপগুলো সজ্জিত করা হয়েছে, যাতে ধর্মীয় পরিবেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক আবহাওয়াও ফুটে উঠে। এছাড়া পুষ্পাঞ্জলি, চণ্ডীপাঠ, আরতি, মহাপ্রসাদ বিতরণ, ভজন কীর্তন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পূজার মর্যাদা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে কয়রার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পুরুষ, মহিলা ও শিশুরা সবাই এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহনশীল আচরণ প্রদর্শন করছে। স্থানীয় পাড়া-মহল্লার মানুষজন একত্র হয়ে পূজা মণ্ডপে উপস্থিত থেকে দেবী দুর্গার আরাধনা করছেন, যা ধর্মীয় ভক্তি ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।
উপজেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে এবং জেনারেটরসহ অন্যান্য জরুরি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়মিত ডিউটি পালন করছে।
কয়রা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার বৈরাগী বলেন- আমরা এবারের দুর্গাপূজাকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে উদযাপনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রত্যেক মণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি সকলের সহযোগিতায় এবারও দুর্গাপূজা আনন্দঘন ও সফলভাবে উদযাপিত হবে।
শারদীয় দুর্গাপূজা কেবলমাত্র একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐক্যের এক বড় উদযাপন। কয়রায় এই উৎসব স্থানীয় মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি পরস্পরের প্রতি সম্মান ও সহযোগিতার মাপকাঠিও বৃদ্ধি করে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পর্যন্ত দুর্গাপূজার প্রতিটি দিক এলাকায় উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করে।
শারদীয় দুর্গোৎসবে অংশগ্রহণকারী স্থানীয়রা বলেন- এই সময়টায় আমাদের পরিবার, প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধব সবাই একত্রিত হয়, যা আমাদের মন-মেজাজকে খুশি করে এবং সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে।
প্রতিবছর এই পূজায় বিশেষ করে শিশু ও তরুণ প্রজন্মকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করার জন্য নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কয়রা অঞ্চলে দুর্গাপূজার এই ঐতিহ্য মঙ্গলময় ও আনন্দঘন পরিবেশে পালনের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে পারছে।
সার্বিকভাবে কয়রায় শারদীয় দুর্গাপূজার এই উৎসব স্থানীয় মানুষের জন্য আনন্দের উৎস হিসেবে পরিচিত, যা প্রতিবছরই নতুন রূপে উদযাপিত হয় এবং এলাকার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও ধর্মীয় চেতনার সাথে ছোঁয়া ধরে রাখে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com