২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সম্ভাবনা জাগিয়েও মঙ্গলবার রাতে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের ফলে সেই সুযোগ আপাতত হাতছাড়া করেছে মিশর। নিজ মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে পয়েন্ট হারায় হোসাম হাসানের দল, যা বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারে তাদের এগিয়ে দিলেও নিশ্চিত করলো না টিকিট।
হোসাম হাসানের জন্য এই মাঠ ছিল আবেগঘন; ১৯৯৮ সালে এখানেই জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন, কিন্তু ম্যাচ শেষে তার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।
প্রথমার্ধেই বড় ধাক্কা খায় মিশর, মাত্র ৯ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মূল স্ট্রাইকার ওমর মারমুশ। এতে আক্রমণভাগে ছন্দ হারায় দলটি। অন্যদিকে দলের বড় তারকা মোহাম্মদ সালাহও ছিলেন দিনটি ভুলে যাওয়ার মতো; পুরো ম্যাচেই ছিলেন নিষ্প্রভ।
৬৬ মিনিটে ওসামা ফাইসালের একটি শট গোলে জড়ালে দর্শকরা উল্লাসে ফেটে পড়লেও অফসাইড পতাকায় সে আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচজুড়ে মিশরের একমাত্র উল্লেখযোগ্য দুইটি অন টার্গেট শট আসে ট্রেজেগের পা থেকে, তবে কোনোটিই জাল খুঁজে পায়নি।
অপরদিকে, সংস্কারকৃত স্টেডিয়ামে প্রথমবার খেলতে নামা বুরকিনা ফাসো বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয়। তাদের দুটি হেড খুব কাছাকাছি থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘এ’-তে ৫ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই আছে মিশর। তবে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বুরকিনা ফাসো তাদের থেকে এখনো ৫ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের সমীকরণে রয়েছে। বাকি দুই ম্যাচে জয় পেতে হবে তাদের, আর একই সঙ্গে মিশরকে হারের মুখ দেখতে হবে দুর্বল প্রতিপক্ষ জিবুতি ও গিনি-বিসাউয়ের বিপক্ষে।
রেকর্ড সাতবারের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মিশর এখন পর্যন্ত মাত্র তিনবার বিশ্বকাপ মঞ্চে খেলেছে—১৯৩৪, ১৯৯০ এবং ২০১৮ সালে। হোসাম হাসানের দল চতুর্থবারের মতো সেই স্বপ্ন পূরণে কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে বাকি দুই ম্যাচের ফলাফলের ওপর।
প্রকাশক ও সম্পাদক:- আমিনা খাতুন ইভা
নির্বাহী সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম ভিপি
All rights reserved ©2026 dailyaparadhchakra.com