আফগানিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপ ২০২৫-এর গ্রুপ পর্বে নিজেদের যাত্রা শেষ করেছে বাংলাদেশ। তবে পরবর্তী ধাপে, অর্থাৎ সুপার ফোরে খেলা এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ, নিজেদের তিন ম্যাচ শেষে দুই জয় ও এক হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ এখন ‘বি’ গ্রুপে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও, সুপার ফোরে যাওয়া নির্ভর করছে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার শেষ ম্যাচের ফলাফলের ওপর।
বাংলাদেশ তাদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৮৯ রানে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে গেলেও নেট রান রেট (NRR) নিয়ে রয়ে গেছে চিন্তার ভাঁজ। বর্তমানে বাংলাদেশের রান রেট -০.২৭০, যা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে এবং তাদের রান রেট +১.৫৪৬। আফগানিস্তান এক জয় ও এক পরাজয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও, তাদের নেট রান রেট সবচেয়ে ভালো - +২.১৫০।
সবচেয়ে সহজ এবং নিশ্চিত পথটি হলো, শ্রীলঙ্কা যদি আফগানিস্তানকে হারায়, তবে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশএই দুই দলই পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ দুই স্থানে থেকে সরাসরি সুপার ফোরে চলে যাবে। এই পরিস্থিতিতে রান রেটের হিসাব করার প্রয়োজনই হবে না বাংলাদেশের জন্য।
তবে জটিলতা শুরু হবে তখনই, যদি আফগানিস্তান জয় পায়। কারণ তখন তিন দলের পয়েন্টই সমান ৪ হয়ে যাবে এবং কে যাবে সুপার ফোরে, তা নির্ধারিত হবে কেবলমাত্র নেট রান রেটের ওপর ভিত্তি করে। যেহেতু শ্রীলঙ্কার রান রেট অনেক ভালো, তাই এমন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখতে হলে দরকার আফগানিস্তানের বড় ব্যবধানের জয়।
এই ক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য হবে বড় ব্যবধানে জেতা, যাতে শ্রীলঙ্কার রান রেট নেমে যায় বাংলাদেশের নিচে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়:
আফগানিস্তান যদি ২০০ রান করে, তাহলে তাদের শ্রীলঙ্কাকে ১২৮ রানের নিচে অলআউট করতে হবে।
যদি ১৫০ রান তোলে, তবে জয় পেতে হবে ৮৪ রানের ব্যবধানে।
এই ধরনের জয়ে শ্রীলঙ্কার রান রেট কমে যাবে এবং বাংলাদেশ চলে আসবে দ্বিতীয় স্থানে, সুপার ফোর নিশ্চিত হবে টাইগারদের।
রান তাড়ার ক্ষেত্রে, আফগানিস্তানকে তাড়াতাড়ি লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। যেমন:
যদি শ্রীলঙ্কা ২২০ রান করে, তবে আফগানিস্তানকে জিততে হবে ৫০ বল হাতে রেখে।
দ্রুত রান তাড়া না করতে পারলে, আফগানিস্তান জিতলেও তারা ও শ্রীলঙ্কা চলে যেতে পারে সুপার ফোরে, বাংলাদেশ বাদ পড়বে।
সবচেয়ে সহজ আরেকটি সম্ভাবনা হলো, যদি কোনো কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়— যেমন বৃষ্টি বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে— তবে বাংলাদেশ সরাসরি সুপার ফোরে উঠে যাবে, কারণ তখন তাদের ৪ পয়েন্ট থেকে যাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে।
নিজেদের দায়িত্ব শেষ করে টাইগাররা এখন আবুধাবি ছেড়ে রওনা দিয়েছে দুবাইয়ের পথে, কিন্তু চোখ থাকবে আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দিকেই। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচ হবে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারক।
প্রতিটি বল, প্রতিটি রান আর প্রতিটি ওভার এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে টাইগারভক্তদের কাছে। জয়, পরাজয়, বা পরিত্যক্ত তিনটি সম্ভাবনার যেকোনো একটি খুলে দিতে পারে সুপার ফোরের দরজা।
নিজেদের শেষ ম্যাচে সাহসী ক্রিকেট খেলে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে সুপার ফোরে যাওয়ার জন্য এখন তাদের ভরসা অন্য দুই দলের পারফরম্যান্সের ওপর। বিশ্ব ক্রিকেটে এই রকম জটিল পয়েন্ট ও রান রেটের হিসাব নতুন নয়, কিন্তু এমন নাটকীয় পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, টাইগাররা এখন শুধুই প্রার্থনায় ও প্রতীক্ষায়- ভাগ্য কি তাদের সঙ্গে থাকবে?
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com