এশিয়া কাপ ২০২৫ – দৈনিক সময়ের অপরাধ চক্র | বাংলা নিউজ পেপার https://dailyaparadhchakra.com বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, অপরাধ, রাজনীতি, ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন। Tue, 16 Sep 2025 19:30:23 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0.2 https://dailyaparadhchakra.com/wp-content/uploads/2025/10/cropped-Eva-Logo-favicon-32x32.jpg এশিয়া কাপ ২০২৫ – দৈনিক সময়ের অপরাধ চক্র | বাংলা নিউজ পেপার https://dailyaparadhchakra.com 32 32 ২০০তম টি-টোয়েন্টিতে জয়ে সুপার ফোরের আশা অটুট https://dailyaparadhchakra.com/sports/2025/09/17/12121 https://dailyaparadhchakra.com/sports/2025/09/17/12121#respond Tue, 16 Sep 2025 19:30:23 +0000 https://papayawhip-butterfly-637958.hostingersite.com/?p=12121 আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আফগানিস্তানকে ৮ রানে হারিয়ে বাংলাদেশ দল তাদের সুপার ফোরে ওঠার আশা অক্ষুণ্ণ রাখল।

নাটকীয় এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে তোলে ১৫৪ রান। জবাবে আফগানিস্তান নির্ধারিত ওভারে ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশ ম্যাচে জয়লাভ করে এবং টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।

বাংলাদেশের ইনিংস: তানজিদের ঝড়ো ফিফটি

টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। বিশেষ করে তানজিদ ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। মাত্র ৩১ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কার সাহায্যে তুলে নেন ৫২ রানের ঝকঝকে ইনিংস। তাঁর ব্যাটিংয়ে দল পাওয়ার প্লেতে সংগ্রহ করে ৫৯ রান, তাও কোনো উইকেট না হারিয়ে।

অন্য প্রান্তে সাইফও ২৮ বলে ৩০ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন। তবে ওপেনিং জুটির পর বাংলাদেশ কিছুটা ধীর গতিতে রান সংগ্রহ করে। তাওহিদ হৃদয় ২০ বলে ২৬ ও শামিম হোসেন ১১ বলে ১১ রান করেন। শেষের দিকে জাকের আলী ও নুরুল হাসান অপরাজিত থেকে যথাক্রমে ১২ ও ১২ রান যোগ করেন। তবে শেষ পাঁচ ওভারে বড় শট খেলতে না পারায় বাংলাদেশ ১৬০ রানের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি, থেমে যায় ১৫৪ রানে।

আফগানিস্তানের বোলিং: রশিদ-নূরের ঝলক

আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন রশিদ খান ও নূর আহমেদ। দুজনেই ৪ ওভার করে বোলিং করে যথাক্রমে ২৬ ও ২৩ রান দিয়ে দুটি করে উইকেট নেন। আজমতউল্লাহ ওমরজাইও একটি উইকেট পান। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই শেষ দিকে বাংলাদেশ বড় স্কোর করতে পারেনি।

আফগানিস্তানের রান তাড়া: শুরুতেই ধস

১৫৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে আফগানিস্তান ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হয়। ম্যাচের প্রথম বলেই স্পিনার নাসুম আহমেদ এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতালকে। এই ধাক্কা আফগান শিবিরকে শুরুতেই চাপে ফেলে দেয়।

নাসুম তার পুরো স্পেলে ছিলেন দুর্দান্ত। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন- সেদিকুল্লাহ আতাল ও ইব্রাহিম জাদরান। এতে আফগানিস্তান শুরুতেই ছন্দ হারায়।

গুরবাজ-ওমরজাইয়ের প্রতিরোধ

প্রথম ধাক্কার পরও আফগানিস্তান কিছুটা লড়াইয়ে ফেরে। উইকেটকিপার-ব্যাটার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ৩১ বলে ৩৫ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। অপরদিকে আজমতউল্লাহ ওমরজাই মাত্র ১৬ বলে ৩০ রান করেন, যেখানে ছিল ১ চার ও ৩ ছক্কা। তবে তারা কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি।

শেষদিকে রশিদ খান ১১ বলে ২০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে কিছুটা আশার আলো জাগালেও সেটি যথেষ্ট ছিল না। মুস্তাফিজুর রহমান শেষদিকে টানা তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে আফগানদের সব আশা শেষ করে দেন

 

বাংলাদেশের বোলিং: মুস্তাফিজ-নাসুম-রিশাদের সাফল্য

বাংলাদেশের বোলাররা সম্মিলিতভাবে দারুণ সাফল্য পান। মুস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। শেষের দিকে তার বোলিংয়ে আফগান ব্যাটসম্যানরা অসহায় হয়ে পড়েন।

নাসুম আহমেদ ম্যাচের শুরুতেই প্রতিপক্ষের ছন্দ নষ্ট করেন। ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট।

রিশাদ হোসেন ছিলেন সবচেয়ে ইকোনমিকাল। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ২ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখেন।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত ফলাফল

বাংলাদেশ: ১৫৪/৫ (২০ ওভার)

আফগানিস্তান: ১৪৬/১০ (২০ ওভার)

ফলাফল: বাংলাদেশ ৮ রানে জয়ী

উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান

 

ব্যাটিংঃ তানজিদ হাসান (বাংলাদেশ): ৫২ (৩১ বলে, ৪ চার, ৩ ছক্কা), সাইফ হাসান (বাংলাদেশ): ৩০ (২৮ বলে, ২ চার, ১ ছক্কা), রহমানুল্লাহ গুরবাজ (আফগানিস্তান): ৩৫ (৩১ বলে, ২ চার, ২ ছক্কা), আজমতউল্লাহ ওমরজাই (আফগানিস্তান): ৩০ (১৬ বলে, ১ চার, ৩ ছক্কা)

বোলিংঃ নাসুম আহমেদ (বাংলাদেশ): ৪-০-১১-২, মুস্তাফিজুর রহমান (বাংলাদেশ): ৪-০-২৮-৩, রিশাদ হোসেন (বাংলাদেশ): ৪-০-১৮-২, রশিদ খান (আফগানিস্তান): ৪-০-২৬-২, নূর আহমেদ (আফগানিস্তান): ৪-০-২৩-২

ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স

যদিও ম্যাচের অফিসিয়াল সেরা ঘোষণা তখনও বাকি, তবে বাংলাদেশের সমর্থকদের কাছে স্পিনার নাসুম আহমেদ ছিলেন ম্যাচসেরা। তার বোলিং শুরুতেই আফগান ইনিংসের গতিপথ বদলে দেয়।

বিশেষ তাৎপর্য

এই ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের ২০০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি। তাই জয়টি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে। একইসাথে জয়টি দলকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার হাত থেকেও বাঁচিয়ে দিল।

বাংলাদেশ এখন গ্রুপ পর্বে ৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ পরাজয় নিয়ে ৪ পয়েন্ট অর্জন করেছে। তারা ‘বি’ গ্রুপে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে এখনও সুপার ফোরে তাদের স্থান নিশ্চিত নয়।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান। যদি শ্রীলঙ্কা জেতে, তবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি সুপার ফোরে যাবে। তবে আফগানিস্তান জিতলে তিন দলই সমান ৪ পয়েন্ট পাবে। সেক্ষেত্রে নেট রান রেট নির্ধারণ করবে কোন দুই দল যাবে সুপার ফোরে।

অধিনায়কের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ম্যাচের আগে বলেছিলেন, দল ১৬০ রানের কাছাকাছি করতে চায়। যদিও সেটি সম্ভব হয়নি, কিন্তু বোলাররা ঘাটতি পূরণ করে দিয়েছেন। লিটনের মতে, দলীয় স্পিরিট ও সঠিক সময়ে বোলারদের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা জয় এনে দিয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি স্মরণীয় জয়। তানজিদের ব্যাটিং, নাসুম ও মুস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিং এবং দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ লড়াইয়ে টিকে রইল। এখন সবার চোখ গ্রুপের শেষ ম্যাচে, যেখানে নির্ধারিত হবে কারা পাবে এশিয়া কাপে সুপার ফোরের টিকিট।

]]>
https://dailyaparadhchakra.com/sports/2025/09/17/12121/feed 0