১৬ ডিসেম্বর—বাংলাদেশের বিজয় দিবস। এই দিনটি শুধু বিজয়ের আনন্দের নয়, এটি গভীর বেদনা, ত্যাগ ও অশ্রুর ইতিহাসও বহন করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যে অসংখ্য মা-বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তারাই আজ ইতিহাসে পরিচিত “বীরাঙ্গনা” নামে। তাদের অসীম কষ্ট ও আত্মত্যাগের বিনিময়েই জাতি পেয়েছে স্বাধীনতার লাল-সবুজ পতাকা।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন অসংখ্য নারী। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সেই ভয়াবহ স্মৃতি বুকে ধারণ করেই তারা যুদ্ধ-পরবর্তী জীবন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। রাষ্ট্রপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের সম্মান জানিয়ে “বীরাঙ্গনা” উপাধিতে ভূষিত করেন, যা ছিল এক সাহসী ও মানবিক স্বীকৃতি।
[caption id="attachment_15608" align="alignnone" width="741"] bongo-news[/caption]
কিন্তু বিজয়ের এত বছর পরও অনেক বীরাঙ্গনা সামাজিক অবহেলা, দারিদ্র্য ও নীরব কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন। বিজয় দিবসে যখন দেশ আনন্দে মেতে ওঠে, তখন তাদের ত্যাগ স্মরণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
১৬ ডিসেম্বর আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা শুধু যুদ্ধজয়ের ফল নয়, এটি নারীর অদৃশ্য অথচ অসীম ত্যাগের ফসল। বীরাঙ্গনাদের যথাযথ মর্যাদা, পুনর্বাসন ও সম্মান নিশ্চিত করাই হতে পারে বিজয় দিবসের প্রকৃত অঙ্গীকার।
জাতি হিসেবে আজ শপথ হোক—বীরাঙ্গনাদের ইতিহাস শুধু পাঠ্যবইয়ে নয়, হৃদয়ে ধারণ করব। তাদের কষ্ট ও ত্যাগের বিনিময়েই যে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি, সেই সত্য কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না।
প্রকাশক ও সম্পাদক:- আমিনা খাতুন ইভা
নির্বাহী সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম ভিপি
All rights reserved ©2026 dailyaparadhchakra.com