
জুরাইনে সিএনজি চালক পাপ্পু শেখ হত্যা
প্রধান আসামি বাপ্পারাজ গ্রেফতার
ঢাকা প্রতিনিধি:
রাজধানীর কদমতলী থানাধীন জুরাইন এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা চালক পাপ্পু শেখ (২৬) হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি মো. বাপ্পারাজ ওরফে বাপ্পা (৪০) কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব সূত্র জানায়, গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে জুরাইন কবি নজরুল লেনের কানা জব্বারের গলিতে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত পাপ্পু শেখ স্থানীয়ভাবে সিএনজি অটোরিকশা চালাতেন। মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী বাপ্পারাজ ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে পাপ্পুর ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার দিন পাপ্পু শেখ তার শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্ব জুরাইনের ভাড়া বাসা থেকে বের হলে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রধারী আসামিরা তাকে জোরপূর্বক আটক করে। এ সময় প্রধান আসামি বাপ্পারাজ তার হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পাপ্পুকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি গুলি ছোড়ে। এর মধ্যে একটি গুলি পাপ্পুর শরীরের সংবেদনশীল স্থানে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আদ-দ্বীন হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত পাপ্পু শেখের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কদমতলী থানায় হত্যা মামলা (মামলা নং-০১/২০২৫, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-১০ এর সহায়তা কামনা করেন।
এর ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০ এর সিপিসি-১, যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মো. বাপ্পারাজ ওরফে বাপ্পা (৪০) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির পিতা আব্দুল জব্বার ওরফে কানা জব্বার। তার বাড়ি পূর্ব জুরাইন এলাকায়। র্যাব জানায়, বাপ্পারাজ একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




