দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা ও রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সকালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তাঁরা কারখানার বিভিন্ন শপ ও স্টেশনের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় ট্রেনের কোচের জানালা সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রেলমন্ত্রী।
জানালা সংস্কারের কাজে অনিয়ম দেখে ক্ষোভ
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী কারখানার ক্যারেজ শপ, ফাউন্ড্রিসহ বিভিন্ন শপ ঘুরে দেখেন এবং কোচের উৎপাদন ও মেরামত কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় ট্রেনের কোচের জানালা সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কাজের ত্রুটি দেখে ক্ষুব্ধ হন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নিজের বাড়ির জানালার কাজ হলে কি এভাবে করতেন?” তাঁর এ বক্তব্যে সংস্কারকাজে দায়িত্বহীনতা ও গুণগত মানের ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে তিনি কারখানা কর্তৃপক্ষকে কাজের মান নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেন এবং সংস্কারকাজে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেন।
দখলমুক্ত হবে রেলের জমি
কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেলমন্ত্রী জানান, রেলওয়ের দখল হয়ে যাওয়া সব জমি চিহ্নিত করে দ্রুত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। রেলওয়ের সম্পদ রক্ষা এবং সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে মিলিয়ে মেরামতের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৪০০টি কোচ দ্রুত সচল করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এ লক্ষ্যে দক্ষ কারিগর নিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। কোচগুলো মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা গেলে রেলসেবার সক্ষমতা বাড়বে এবং যাত্রী পরিবহনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
রেলের আধুনিকায়নে কারখানার গুরুত্ব
রেলওয়ের কোচ মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এ কারখানার উৎপাদন ও সংস্কার কার্যক্রমে গুণগত মান বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে যাত্রীবাহী কোচের নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করতে মেরামতকাজে মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে রেলমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার আহম্মদ হোসেন মাসুম, সৈয়দপুর কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ এবং নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীরসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে সংস্কারকাজের মানোন্নয়ন, রেলওয়ের সম্পত্তি উদ্ধার এবং মেরামতের অপেক্ষায় থাকা কোচগুলো দ্রুত সচল করার বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি সামনে এসেছে। এখন এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।







