বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালন করা হবে। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৫, রবিবার, দুপুর ২টায় ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, রমনাতে এক আলোচনা সভার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এই সভায় দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। আলোচনা সভায় দলের প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়া, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
পরের দিন, ১ সেপ্টেম্বর, সোমবার, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাতার প্রতি সম্মান জানানো হবে।
তৃতীয় ও শেষ দিনে, ২ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, দুপুর ২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে। র্যালিটি বাংলামোটর পর্যন্ত অগ্রসর হবে। এতে হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাপনী কর্মসূচি সম্পন্ন হবে। দলীয় নেতাদের প্রত্যাশা, এই র্যালি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন কেবল স্মৃতিচারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন উদ্দীপনা সঞ্চারের লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। দলটির নেতারা আশা করছেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মানুষের ভোটাধিকার আদায়ে বিএনপির এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।