নামজারি থেকে জমির রেকর্ড সংশোধন—সব কাজেই ঘুষ দাবি, তদন্তে নানা অনিয়মের তথ্য
মানিকগঞ্জ জেলার ধুলশুরা ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রাকিব হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ধুলশুরা ও হারুকান্দি—এই দুই ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভূমি সংক্রান্ত প্রায় সব ধরনের কাজেই ঘুষ দাবি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নামজারি, জমির রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন কাজে ঘুষ না দিলে সংশ্লিষ্ট ফাইল দীর্ঘদিন টেবিলে পড়ে থাকে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই এগোয় না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আব্দুল হাকিম গং-এর পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ২৫ শতক জমি জাল দলিলের মাধ্যমে জালাল মোল্লার নামে করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ওই জমি জামেলা বেগম, শারমিন, মো. কাজল মোল্লা, মিলন মোল্লা এবং কিরণ মোল্লার নামে নামজারিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রাকিব হাসান সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ রাখতে মোটা অঙ্কের টাকা প্রস্তাব করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া ২০২৩ সালে ধুলশুরা ইউনিয়নের সিকস্তি জমিও টাকার বিনিময়ে নামজারি করে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সিকস্তি জমির ক্ষেত্রে শতাংশ প্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে নামজারি করা হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ জমির নামজারি টাকার বিনিময়ে সম্পন্ন হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগে কয়েকটি দাগ নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
দাগ নং: ৩০২১, শ্রেণি: নাল, পরিমাণ: ৬ একর দাগ নং: ৩৯১৬ ও ৩৯১৭, শ্রেণি: নাল, পরিমাণ: ৭৯.৫ শতাংশ দাগ নং: ৫২৬৩, শ্রেণি: নাল, পরিমাণ: ২৫ শতাংশ
এছাড়া ভুল রেকর্ড সংশোধনের জন্যও ৪০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের মতে, খতিয়ান নং ২৬৫–এর একটি রেকর্ড ভুলবশত ৪৯২৬ হয়ে যাওয়ায় তা সংশোধনের জন্য এই টাকা দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগীরা বলেন, “টাকা ছাড়া নায়েব কোনো কাজ করেন না। এমন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আমাদের ইউনিয়নে আমরা চাই না।”
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য সহকারী ভূমি কমিশনারকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। তিনি জানান, জাল দলিলের মাধ্যমে করা জালাল মোল্লার নামজারি বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং তা ইতোমধ্যে বাতিল হিসেবে গণ্য হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আর হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।