মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) দুপুর ১২টায় রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বী
র মুক্তিযোদ্ধারা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়, যা পুরো পরিবেশকে করে তোলে আবেগঘন ও শ্রদ্ধামিশ্রিত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মিজানুর রহমান, যিনি ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ঢাকা জেলার ৯৭তম পুলিশ সুপা
র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়। তাদের এই ত্যাগ ও সাহসিকতা আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে চিরকাল।” তিনি নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস জানার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা জেলা প্রশাসক মহোদয় উক্ত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাদের কল্যাণে সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা করা এবং তাদের স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আলোচনা সভায় বক্তারা মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং দেশের চলমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এবং তাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
এই আয়োজনের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা দিবসের চেতনা আরও সুদৃঢ় হবে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।