বগুড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরির অভিযোগে একটি কারখানার মালিককে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে কাহালু উপজেলা এলাকার শেখাহার গ্রামের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে এ দণ্ড দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বগুড়া জেলা কার্যালয় যৌথভাবে চালানো এই অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজাদ হোসেন।ব্রেকিং নিউজ দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন- ভোলতা এলাকার “মীম লাচ্ছা সেমাই” কারখানার মালিক মো. শরিফুল ইসলাম। পরে তাঁকে জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযানে দেখা যায়, শ্রমিকেরা পায়ে মাড়িয়ে সেমাইয়ের ডো তৈরি করছেন। এছাড়া নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরি করা হচ্ছিল। কাদা ও ময়লাযুক্ত সেমাই তেলে ভেজে প্রস্তুত করা হচ্ছিল এবং পোড়া তেল ব্যবহার করা হচ্ছিল।
এ ছাড়া সেমাই তৈরিতে ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ রাসায়নিক এবং নন-ফুড গ্রেড রং ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অপরাধে দোষ স্বীকার করায় কারখানার মালিককে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অনিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য উপকরণ জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
অপরদিকে একই দিন বেলা ১১টার দিকে বগুড়া জেলার ফতেহ আলী বাজারের ছাতা পট্টির গলিতে মসলার দোকানে ধানের তুষ!!! দুইটি প্রতিষ্ঠানকে ৭০,০০০/- (সত্তর হাজার) টাকা জরিমানা।
অভিযান পরিচালনাকালে দোলন নামের একটি খুচরা মসলা বিক্রয়ের দোকানে “এক বস্তা ধানের তুষ ও এক বস্তা পঁচা ও নিম্নমানের মরিচ” সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যায়।।
এছাড়াও বগুড়া হলুদ মিলে মৌরী হলুদ নামে নষ্ট ও নিম্নমানের হলুদ ভালো হলুদের সাথে মিশ্রণ করার জন্য সংরক্ষণ করতে দেখা যায়।।
এসকল অপরাধের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অভিযুক্ত দোলন মসলার মিলকে ৫০ হাজার টাকা এবং বগুড়া হলুদ মিলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিদপ্তর,বগুড়া, র্যাব-১২ এবং পুলিশের সদস্যা।
অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল জেলা পুলিশের একটি দল।