মাদারীপুরে ৩০ বছরের পুরনো একটি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে দখলমুক্ত না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি রাস্তার ওপর স্থাপনা নির্মাণ করে বা বিভিন্নভাবে দখল করে রাখায় সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বহুবার স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী যানবাহন এবং সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
নীয়রা জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত এই সড়কটি একসময় এলাকাবাসীর প্রধান যোগাযোগ পথ ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে অবৈধ দখলের কারণে সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তার অংশ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
মাদারীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুকরাইল এলাকায় প্রায় ৩০ বছর ধরে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক অবৈধ দখলে রয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এবং তাদের মৌলিক চলাচলের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দখলদারদের অপসারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান শুরু না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সওজ (সড়ক ও জনপথ) খাদ্য গুদাম থেকে শহীদ বাচ্চু স্কুল হয়ে শরীয়তপুর-মোস্তফাপুর চার লেন সড়কের সঙ্গে যুক্ত এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সড়কের পূর্ব পাশে সওজের প্রাচীর সংলগ্ন জমি এবং পশ্চিম পাশে এলাকাবাসীর দান করা জমির ওপর নির্মিত হলেও কিছু প্রভাবশালী দখলদাররা সড়কের মধ্যভাগে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। ফলে সড়কের প্রস্থ মাত্র ৩ ফুট ৬ ইঞ্চিতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, এই অবস্থায় জরুরি প্রয়োজনে (যেমন- মৃতদেহ দাফনের জন্য খাটিয়া বহন) এমনকি রিকশা চলাচলও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সড়কটি পৌরসভার স্বীকৃত এবং এর উন্নয়নে পৌরসভা একাধিকবার বালু ভরাটসহ অন্যান্য কাজ করেছে। এলজিআরডি প্রকল্পের আওতায় ভবিষ্যতে আরসিসি সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের প্রস্তাবও রয়েছে।
২০২৩ সালের আগস্ট মাসে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। পরবর্তীতে জনপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দায়ের করা হয়। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস ও পৌরসভা যৌথভাবে একাধিক সরেজমিন তদন্ত করে। তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে অবৈধ দখলের বিষয়টি উল্লেখ করে স্থাপনা অপসারণের সুপারিশ করা হয়।
২০২৫ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসক ও পৌরসভাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পৌরসভা দখলদারদের তিন দিনের মধ্যে স্থাপনা অপসারণের নোটিশ দেয়, কিন্তু তা উপেক্ষিত হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ আসে। সড়ক ও জনপথ বিভাগও যৌথ জরিপ প্রতিবেদন দাখিল করে এবং প্রশাসনিক সহায়তা চেয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়।
চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দখলদারদের সাত দিনের মধ্যে স্বেচ্ছায় স্থাপনা অপসারণের নোটিশ দেন। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও উচ্ছেদ অভিযান এখনো শুরু হয়নি।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, প্রশাসনের গাফিলতি ও বিলম্বের কারণে তাদের দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তারা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সড়কটি মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এই দখল অব্যাহত থাকলে নগর উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যতের আরসিসি সড়ক নির্মাণ কাজও বাধাগ্রস্ত হবে। তারা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।