ঢাকা, ১০ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ শুক্রবার বিকেল ১৪২৮ ঘটিকায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেইট থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বানে এ গণমিছিলের আয়োজন করা হয়।
বিকেল ২টা ২৮ মিনিটে বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেইট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে জিরো পয়েন্ট, পল্টন হয়ে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে আনুমানিক দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল বলে জানা গেছে। পুরো রুটে পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
গণমিছিলে উপস্থিত নেতারা বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসন ও একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। তারা জানান, জুলাই জাতীয় সনদে উল্লিখিত মূলনীতির ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে। একইসঙ্গে জনগণের অধিকার রক্ষায় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
নেতারা আরও বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনাই এখন সময়ের দাবি। গণতান্ত্রিক ধারাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রাখতে হবে এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
গণমিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। মিছিল চলাকালে কোনো ধরনের অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিকে ঘিরে রুটের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। যানবাহনের গতিপথ কিছুক্ষণের জন্য ধীরগতি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মিছিল শেষে জামায়াতে ইসলামী নেতারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তারা বলেন, “আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।” এ সময় নেতারা ভবিষ্যতে কর্মসূচি আরও বর্ধিত করার ঘোষণা দেন এবং সরকারকে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হওয়া এই গণমিছিলকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পল্টন ও কাকরাইল এলাকায় সাধারণ জনগণের আগ্রহ দেখা যায়। অংশগ্রহণকারীরা দলীয় পতাকা ও ব্যানার হাতে নিয়ে শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে রাস্তায় হাঁটেন।
অবশেষে কাকরাইল মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে গণমিছিলের কার্যক্রম শেষ হয়। পুরো সময়জুড়ে রাজধানীর সার্বিক পরিস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রণে।