–
বসন্তের ফুরফুরে বাতাস আর পলাশ-শিমুলের রঙে যখন প্রকৃতি সেজেছে, ঠিক তখনই বাঙালির চিরায়ত লোকজ সংস্কৃতিকে বরণ করে নিতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (NSU) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য পিঠা উৎসব। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন মাঠে অত্যন্ত আনন্দঘন ও সুসংগঠিত পরিবেশে এই উৎসব সম্পন্ন হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সেবামূলক সংগঠন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সোশ্যাল সার্ভিসেস ক্লাব’ (NSUSSC) নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার ঐতিহ্যকে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই ব্যতিক্রমী মেলার আয়োজন করে।
সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ ছিল উৎসবমুখর। বর্ণিল আলপনা, বাঁশের তৈরি কুলা, ডালা এবং গ্রামীণ আবহের সাজসজ্জায় পুরো এলাকাটি একটি ক্ষুদ্র জনপদে পরিণত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাঙালি সাজে—ছেলেরা পাঞ্জাবি ও মেয়েরা শাড়ি পরে উৎসবে যোগ দেন।
আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিজ উদ্যোগে স্থাপিত পিঠার স্টলগুলো। স্টলগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পিঠার সমাহার ছিল দেখার মতো। ভাপা, চিতই, পাটিসাপটা থেকে শুরু করে নকশি পিঠা, দুধপুলি ও মালপোয়ার মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত ছিল চারপাশ। আধুনিকতার যুগে বিলুপ্তপ্রায় অনেক দেশীয় পিঠা প্রদর্শনী ও পরিবেশনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার রন্ধনশৈলী তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব আজিজ আল কায়সার। তিনি বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন,
আমাদের তরুণ সমাজকে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির পাশাপাশি নিজস্ব বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ লালন করতে হবে। এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের শেকড়ের সাথে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
ক্লাবের ফ্যাকাল্টি এডভাইজার জনাব মেজবাহ উল হাসান চৌধুরী বলেন,সমাজসেবার পাশাপাশি জাতির গৌরবময় ঐতিহ্য রক্ষা করাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি যেন নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে বড় হয়।
ক্লাবের প্রচেষ্টা ও সমাপনী
উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট খালিদ বিন মোর্শেদ রামিম জানান, পিঠা বাঙালির আতিথেয়তার প্রতীক। এই উৎসবের মাধ্যমে তারা ক্যাম্পাস জীবনে যান্ত্রিকতার বাইরে কিছুটা হলেও গ্রামীণ আমেজ সৃষ্টি করতে চেয়েছেন।
দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মাধ্যমে, যেখানে লোকজ গান ও নাচের তালে মেতে ওঠেন সকলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে, প্রযুক্তির এই যুগেও শেকড়ের টান ফুরিয়ে যায়নি।