বাগেরহাটের মোল্লাহাটে উপজেলার উত্তরকুলিয়া এলাকায় মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছেচেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পাকা সড়কের উপর ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে মহিলা সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ হেদায়েত মোল্লাসহ ৫ জনকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে তিন জনের পায়ের গোড়ালিতে গুরুতর জখম হয়েছে। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কুলিয়া গ্রামের ডালিম ও আরিফুল নামের দুই ব্যক্তি দারিয়ালা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা থেকে মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। তাদের সন্দেহ ছিল, একই এলাকার আয়াত উল্লাহ তাদেরকে ধরিয়ে দিয়েছেন। পরে তারা জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আয়াত উল্লাহকে না পেয়ে তার বড় ভাই অলিদ (৫০)-কে গত শুক্রবার মারধর করেন। আহত অলিদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে শনিবার বাড়ি ফেরেন। এদিন অলিদকে দেখতে স্বজন ও সমর্থকরা বাড়িতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
এক পক্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ হেদায়েত উল্লাহ মোল্লা (৪৭), তার ভাই এনায়েত উল্লাহ (৪২), বোন গোলেনুর (৫৫), শাহ আলম (২৮) ও সেফায়েত (৬৫) আহত হয়েছেন । অপর পক্ষে জামাল মোল্লা(৫০), জাকির মোল্লা(৩৮), রুবেল মোল্লা(৩৫) রাঙ্গা মোল্লা(৩২), হরমুজ মোল্লা(২৭) উভয় পিতা- বীর মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার মোল্লা আহত হয়েছেন।
আহত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ হেদায়েত উল্লাহ মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, তিনি তার ছোট ভাইকে মাদক থেকে ফেরাতে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। এ কারণে তার ভাই বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, এলাকা মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ায় ডালিম ও তার পক্ষের লোকজন তার ভাই অলিদকে মারধর করে। শনিবার হাসপাতালে থেকে বাড়ি ফেরার পর আবারও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পাল্টা অভিযোগে জামাল মোল্লা মোল্লা জানান, হেদায়েতের পিতা ছিলেন ৭১ এর রাজাকার আর আমার আব্বা সেকেন্দার মোল্লা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এটাই আমাদের ভেতর মুল বিরোধ। তিনি আরো বলেন, এবারের নির্বাচনের আগেই তারা আমাদের হুমকি দেয় যে, বিএনপির ক্ষমতায় আসলে আমাদের দেখে নেবে। সেই থেকে তারা একের পর এক মিথ্যা মামলা হামলা দিয়ে আমার জর্জরিত করে রেখেছে। এর আগে হেদায়েতের মেয়ের বিয়ের সময়ে আমার একটি গরু বিক্রির টাকা পাওনা ছিল যা চাইতে গেলেই আমাকে মারার হুমকি ধামকি দেয়। ঘটনার দিন তারা আমার ছেলেকে আটক করে রেখে আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। এরপর আমরা গিয়ে আমাদের ছেলেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরলেই তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের উপর হামলা করে। এঘটনায় তার ভাই জাকির মোল্লা(৩৮), রুবেল মোল্লা(৩৫) রাঙ্গা মোল্লা(৩২), হরমুজ মোল্লা(২৭) পিতা- বীর মুক্তিযোদ্ধা সেকেন্দার মোল্লা আহত হয়।
এ বিষয়ে মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক জানান, এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এক পক্ষের লিখিত এজাহার পেয়ে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।