মেহেদী হাসান
চীফ রিপোর্টার
ছিনতাইকালে সিআইডির এসআইয়ের সাহসী অভিযানে এক ছিনতাইকারী হাতেনাতে গ্রেফতার; উদ্ধার ৭৭ হাজার টাকা
রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় সংঘটিত এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাৎক্ষণিক সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর এক কর্মকর্তা একজন ছিনতাইকারীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছেন এবং ছিনতাইকৃত নগদ ৭৭,০০০/- (সাতাত্তর হাজার) টাকা উদ্ধার করেছেন।
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ আনুমানিক বেলা ১৩ ঘটিকায় ভিকটিম তৌহিদ আলমগীর (৪৪), পিতা-আবুল কাশেম, সাং-ঝিটকা, থানা-হরিরামপুর, জেলা-মানিকগঞ্জ, শান্তিনগর এলাকা থেকে রিকশাযোগে তার বর্তমান ঠিকানা বাসা নং-২৫৩, রোড নং-১০, পূর্ব গোড়ান, থানা-খিলগাঁও, ডিএমপি, ঢাকায় যাচ্ছিলেন। তিনি শান্তিনগর-এজিবি কলোনী এলাকায় সিআইডির ঢাকা মেট্রো (ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুল ভবন) অফিসের সামনে পৌঁছালে ৩ (তিন) জন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে ধারালো চাকু প্রদর্শনপূর্বক ভয়ভীতি সৃষ্টি করে তার নিকট থেকে নগদ ৭৭,০০০/- টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
ভিকটিমের ডাক-চিৎকারে সাড়া দিয়ে ঘটনাস্থলের নিকটেই অবস্থানরত সিআইডি ঢাকা মেট্রো-উত্তর বিভাগে কর্মরত এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ মনির হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে একাই ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেন। অসাধারণ সাহসিকতা ও তাৎপর্যপূর্ণ তৎপরতার মাধ্যমে তিনি একজন ছিনতাইকারীকে পেছন থেকে জাপটে ধরে আটক করতে সক্ষম হন। এ সময় ধারালো চাকুসহ অপর দুই ছিনতাইকারী দৌড়ে পালিয়ে যায়।
আটককৃত ছিনতাইকারীর নাম মো. সাইদুজ্জামান সোহেল (৫২), পিতা-মৃত আবুল কালাম আজাদ, মাতা-মোসা. জোলেখা। তার স্থায়ী ঠিকানা-ঘনিয়ারচর, থানা-হোমনা, জেলা-কুমিল্লা; বর্তমান ঠিকানা-ভূইঘর (সাংবাদিক আতাউর রহমান বাবুর বাড়ি), থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জ। তার হেফাজত থেকে ছিনতাইকৃত সম্পূর্ণ ৭৭,০০০/- টাকা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হয়।
ভিকটিম তৌহিদ আলমগীর ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড-এ এরিয়া ম্যানেজার পদে কর্মরত। অফিসিয়াল দায়িত্ব পালন শেষে কোম্পানির উক্ত নগদ অর্থসহ বাসায় ফেরার পথে তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও পিসি/পিআর যাচাইয়ে জানা যায়, আটককৃত আসামী একজন পেশাদার ছিনতাইকারী এবং আন্তঃজেলা ডাকাতদল ও অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় সদস্য। তিনি ও তার সহযোগীরা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় ছিনতাই, ডাকাতি এবং পথচারী/যাত্রীদের অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে ডিএমপি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রুজু রয়েছে এবং একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলতবি আছে। অতীতেও তিনি বিভিন্ন থানায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন।
আসামীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাসমূহ:
১। শাহবাগ থানা, ডিএমপি, ঢাকা – মামলা নং-৩০; তারিখ: ২৪/০৪/২০২৫ খ্রি.; ধারা-৩৯৯/৪০২, পেনাল কোড;
২। মতিঝিল থানা, ডিএমপি, ঢাকা – মামলা নং-৪৪; তারিখ: ২৬/০৫/২০১৮ খ্রি.; ধারা-৩২৮/৫১১, পেনাল কোড;
৩। পল্টন থানা, ডিএমপি, ঢাকা – মামলা নং-৫৭; তারিখ: ২৮/০১/২০২৫ খ্রি.; ধারা-৩৯৩, পেনাল কোড;
৪। যাত্রাবাড়ী থানা, ডিএমপি, ঢাকা – মামলা নং-৭৭; তারিখ: ২৭/০৩/২০২৫ খ্রি.; ধারা-৩৯৯/৪০২, পেনাল কোড;
৫। পল্টন থানা, ডিএমপি, ঢাকা – মামলা নং-০৫; তারিখ: ০৪/১০/২০১৭ খ্রি.; ধারা-৩৯৯/৪০২, পেনাল কোড;
৬। ফতুল্লা থানা, জেলা-নারায়ণগঞ্জ – মামলা নং-৭৮; তারিখ: ২৭/০৪/২০১২ খ্রি.; ধারা-১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩৭৯/৫০৬, পেনাল কোড।
আটককৃত আসামী ও উদ্ধারকৃত নগদ অর্থ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পল্টন থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সিআইডি রাজধানীসহ সারাদেশে ছিনতাই, ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও কঠোরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।