নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হোম সিরিজে জয় পেলেও কিছু প্রশ্ন থেকেই গেল বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি ঘিরে। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে ফলাফল ইতিবাচক হলেও, ম্যাচের ভেতরের কিছু দিক ভাবিয়ে তুলেছে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের।
সিরিজের শেষ ম্যাচে পাঁচটি পরিবর্তন এনে চমক দেখিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত ছিল দুই নিয়মিত ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমনকে বিশ্রাম দেওয়া। তাদের পরিবর্তে ইনিংস শুরু করেন লিটন দাস ও সাইফ হাসান। যদিও লিটন দারুণ খেলেছেন, সাইফ ছিলেন বেশ সাদামাটা। ব্যাট হাতে সাইফ করেন ৮ বলে ১২ রান। অন্যদিকে মিডল অর্ডারে হৃদয়ের ১৪ বলে ৯ রানের ইনিংসটিও হতাশাজনক। ফিনিশিংয়ে অবশ্য জাকের আলী ও নুরুল হাসান সোহান ভালো ছাপ রেখেছেন।
এদিকে, বহুদিন পর মাঠে ফেরা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন বল হাতে সুযোগ পেলেও বৃষ্টি তার পারফরম্যান্স বোঝার সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়, এবং এর সঙ্গে সঙ্গে অনুশীলনের বড় একটি সুযোগও হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের।
পরীক্ষানিরীক্ষার অভাব, সাহসের ঘাটতি?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিরিজ জেতার পরও বাংলাদেশ পুরোপুরি সাহসী হতে পারেনি। টস জিতে আগের ম্যাচগুলোতে ব্যাটিং নেওয়ার বদলে ফিল্ডিংয়ে পাঠানো হয়েছে প্রতিপক্ষকে। যার ফলে ২০০ রানের লক্ষ্য দাঁড় করানো এবং তা ডিফেন্ড করার অভ্যাস তৈরি হয়নি। অথচ সামনেই এশিয়া কাপ—যেখানে ব্যাটিং সহায়ক কন্ডিশনে বড় রান তুলেই ম্যাচ জিততে হবে।
লিটনের চোখে প্রাপ্তি
অধিনায়ক লিটন দাস অবশ্য সিরিজ নিয়ে আশাবাদী। তার ভাষায়, “অনুশীলনের চেয়েও ম্যাচ খেলে উন্নতি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই সিরিজের অভিজ্ঞতা আমাদের এশিয়া কাপের আগে আত্মবিশ্বাস দেবে।”
প্রাপ্তির দিক দিয়ে দেখা গেলে, টানা দুই সিরিজ হারার পর তিনটি সিরিজে জয় এসেছে — শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। যা দলের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করেন টিম ম্যানেজমেন্ট।
তবে প্রস্তুতির ঘাটতি আড়াল নয়
সবকিছুর পরেও, কিছু বিষয় দলকে ভাবতেই হবে। যেমন, নিয়মিত ওপেনার ছাড়া ইনিংস শুরু করার প্রস্তুতি কতটা রয়েছে? মিডল অর্ডারের বিকল্পরা কতটা ধারাবাহিক? এবং ২০০ রানের লক্ষ্য ডিফেন্ড করার মতো বোলিং ইউনিট কতটা প্রস্তুত? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতেই এই সিরিজ ছিল আদর্শ জায়গা। কিন্তু আবহাওয়া ও পরিকল্পনার অভাবে অনেক কিছুই জানা হলো না।
এশিয়া কাপ সামনে, প্রস্তুতির চেয়ে আত্মবিশ্বাস বড়?
সিরিজের শেষে বাংলাদেশের ঝুলিতে আছে জয় আর কিছু নতুন মুখকে দেখার সুযোগ। তবে যে বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল—সেগুলোর বেশিরভাগই অজানাই রয়ে গেল। এখন দেখার বিষয়, এই সীমিত প্রস্তুতি নিয়েই এশিয়া কাপে কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে টাইগাররা।