টানা ৯ বছর ধরে ঘাটাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পদে বহাল রয়েছেন এনামুল হক। সরকারি নীতিমালায় একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি দায়িত্ব পালনের নিয়ম না থাকলেও তিনি একের পর এক বদলির আদেশ স্থগিত করে ঘাটাইলেই রয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে কোটি টাকার দুর্নীতি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ।
জানা যায়, ২০১১ সালের ১৬ আগস্ট ঘাটাইলে যোগদানের পর থেকেই এনামুল হকের নেতৃত্বে পিআইও অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব শুরু হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন নামসর্বস্ব মসজিদ, মাদ্রাসা, মাজার ও প্রতিষ্ঠানের নামে কাবিখা, টিআর ও কাবিটা প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হয়। সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হয় ২০১২-১৪ সালের মধ্যে, যখন প্রয়াত সংসদ সদস্য ডা. মতিউর রহমান দায়িত্বে ছিলেন।
২০১৭ সালে যুগান্তরে ‘ঘাটাইলে কর্মসৃজন প্রকল্পে লুটপাট’ এবং ২০১৯ সালে ‘ভুয়া প্রকল্পে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ’ শিরোনামে দুটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর তদন্তে নামে প্রশাসন। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললেও তা প্রকাশ পায়নি। তবে অর্থ আত্মসাতের কারণে সরকারকে ১ কোটি ২৮ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ফেরত দিতে হয় প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের।
পিআইও এনামুল হককে ২০১৪ সালে গোপালপুরে এবং ২০১৬ সালে বগুড়ায় বদলি করা হলেও, দুই ক্ষেত্রেই আদেশ স্থগিত হয়। পরে ২০১৬ সালের নভেম্বরে আবারও ঘাটাইলে ফিরে আসেন তিনি এবং সেখানেই থেকে যান আজ পর্যন্ত।
অভিযোগ রয়েছে, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিনি ঘাটাইল মেইন রোডে খাদ্যগুদামের বিপরীতে দোকানঘরসহ কিনেছেন কোটি টাকার সম্পত্তি, হয়েছেন বিলাসবহুল গাড়ির মালিক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল হক বলেন, “কিছু কাগজপত্র আছে, পরে দেখাব।” তবে কাগজপত্র আর দেখানো হয়নি।
জমি কেনার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, “আমার কাছে কেউ টাকা পায়, দোকানভাড়া তুলে সেই টাকা পরিশোধ করছি।” অথচ জমির বিক্রেতা আব্দুর রশিদ বলেন, “পিআইও ও জুয়েল খান নামের এক ব্যবসায়ী যৌথভাবে জমি কিনেছেন।”
বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস-২০২৫-এর ৭(ক) অনুযায়ী, বদলিযোগ্য কর্মকর্তা তিন বছরের বেশি একই স্থানে দায়িত্বে থাকতে পারেন না। কিন্তু এনামুল হকের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম কেন উপেক্ষিত—তা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য দেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সাঈদ বলেন, “এটা আমার আওতার বাইরে, কিছু বলার নেই।”
সচেতন মহলের প্রশ্ন—প্রশাসন কি তাহলে অদৃশ্য কোনো শক্তির সামনে অসহায়?