আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন শিকদার।
স্থানীয় রাজনীতি, সামাজিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও এলাকার উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি আব্দুল হান্নান।
প্রশ্ন: চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা কেন প্রকাশ করেছেন?
আলমগীর হোসেন শিকদার:
আমি দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মানুষের সুখ-দুঃখ ও বিভিন্ন সমস্যার কথা কাছ থেকে দেখেছি। সুযোগ পেলে জনগণের পাশে থেকে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করতে চাই। এ কারণেই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি।
প্রশ্ন: আপনার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাই।
আলমগীর হোসেন শিকদার:
আমি ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছি। নতুন বাজার মিতালি যুব সংঘের সাবেক সভাপতি ছিলাম। হাজী সোহরাব আলী স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি।
প্রশ্ন: আপনার পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ও এলাকায় বেশ পরিচিত। এ বিষয়ে কী বলবেন?
আলমগীর হোসেন শিকদার:
আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকাদ্দস আলী শিকদার একজন প্রবীণ বিএনপি নেতা ছিলেন। তিনি বিএনপির সিলেট জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক, গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এবং অখণ্ড ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির দীর্ঘ সময় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সামাজিকভাবে একজন পরিচিত শালিস ব্যক্তিত্বও ছিলেন। বাবার কাছ থেকে মানুষের পাশে থাকার শিক্ষা পেয়েছি।
প্রশ্ন: বর্তমানে আপনার গণসংযোগ কেমন চলছে?
আলমগীর হোসেন শিকদার:
আমি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে যাচ্ছি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা ও এলাকার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি। আমি মনে করি, জনগণের কথা না শুনে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা করা সম্ভব নয়।
প্রশ্ন: চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আপনার প্রধান অগ্রাধিকার কী থাকবে?
আলমগীর হোসেন শিকদার:
আমার প্রধান লক্ষ্য হবে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা এবং যুবসমাজকে খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা। একই সঙ্গে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা সহজ ও স্বচ্ছ করার চেষ্টা করব।
প্রশ্ন: শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
আলমগীর হোসেন শিকদার:
স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচিত হলে সরকারি সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা থাকবে। শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হলে পুরো সমাজ এগিয়ে যাবে।
প্রশ্ন: যুবসমাজের জন্য কী ধরনের উদ্যোগ নিতে চান?
আলমগীর হোসেন শিকদার:
যুবকরাই একটি ইউনিয়নের বড় শক্তি। তাদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করতে চাই। ইউনিয়নে ক্রীড়া ও যুব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশ্ন: আপনার বিরুদ্ধে যদি কেউ রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত অভিযোগ তোলে, কীভাবে দেখবেন?
আলমগীর হোসেন শিকদার:
গণতান্ত্রিক পরিবেশে প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কেউ অভিযোগ করলে আমি সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখব। তবে আমার রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ড জনগণই মূল্যায়ন করবেন। আমি কোনো ব্যক্তিগত বিরোধে যেতে চাই না।
প্রশ্ন: দলীয় মনোনয়ন বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
আলমগীর হোসেন শিকদার:
দলীয় সিদ্ধান্ত অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। দলের সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। পাশাপাশি জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত এবং জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে চাই।
প্রশ্ন: ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য কী?
আলমগীর হোসেন শিকদার:
আমি জনগণের কাছে কোনো বড় প্রতিশ্রুতির চেয়ে কাজের সুযোগ চাই। দল-মত নির্বিশেষে পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের সব মানুষের পাশে থাকতে চাই। মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও আস্থা আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশের পর পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আলমগীর হোসেন শিকদারের গণসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক সমীকরণ, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান—সব মিলিয়ে আগামী দিনে ভোটের মাঠের চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।






