কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ায় পাহাড়ের পাদদেশে কথিত ডাকাত দলের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, আটক ব্যক্তি একটি ডাকাত দলের সদস্য।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পুরানপাড়া এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে পাহাড়ের দিকে কয়েকজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুরুতর আহত এক ব্যক্তি পাহাড় থেকে লোকালয়ের দিকে চলে আসেন। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে রাখেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের এসআই হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিকে হেফাজতে নেয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আটক ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত নয়
পুলিশের হেফাজতে নেওয়া ওই ব্যক্তির তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি কোনো অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত কি না, সংঘর্ষে কারা অংশ নিয়েছিল এবং কী কারণে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ঘটনায় পাহাড়ে থাকা অন্যদের বিষয়ে পুলিশ কোনো তথ্য পেয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
অপহরণ-ডাকাতির আতঙ্কে বাহারছড়া
দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ঘেরা বাহারছড়ার বিভিন্ন এলাকায় অপহরণ, ডাকাতি ও মানবপাচার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। পাহাড়কে ঘিরে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তৎপরতার অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়দের।
নতুন করে পাহাড়ে সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় চলাচল ও বসবাসকারী মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কবে?
স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়ে কথিত ডাকাত ও অপহরণকারী চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি পাহাড়সংলগ্ন জনবসতিতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের প্রশ্ন, “আর কত অপহরণ, ডাকাতি ও অপরাধের ঘটনা ঘটলে পাহাড়ঘেরা বাহারছড়ার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে?”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাম্প্রতিক ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি পাহাড়ে সক্রিয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।







