নারীদের ওপর হামলাকারীদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নারীর ওপর হামলা কোনো সাহসিকতার পরিচয় নয়; বরং হামলাকারীরা কাপুরুষ।
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, জুলাইয়ে যে নারী সাহসিকতার সঙ্গে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁর ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। একজন নারীর ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
“যারা নারীদের ওপর হামলা করে, তারা কাপুরুষ”
রিজভী বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও হামলার বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে হবে। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। কোনো মতপার্থক্য, রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে নারীর ওপর হামলা চালানোর সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে অনেক নারী সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে ভূমিকা রেখেছেন। অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনও সেই সময়ে ভূমিকা রেখেছেন। এমন একজন নারীর ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
সংসদেও উঠেছে হামলার বিষয়
বাঁধনের ওপর হামলার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় এসেছে বলে জানান রিজভী। এ ঘটনায় সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যরা কথা বলেছেন। ফলে ঘটনাটি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি নারীর নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সামাজিক নিরাপত্তার বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে এনেছে।
নারীর নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি
রিজভী বলেন, নারীরা যেন নির্বিঘ্নে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারেন এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন—এমন নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নারীর ওপর হামলা, ভয়ভীতি ও হয়রানির ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, নারীর কণ্ঠ স্তব্ধ করতে হামলা কোনো সমাধান নয়। বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে আরও ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেয়।
রিজভীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—নারীর ওপর হামলাকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে জুলাইয়ের আন্দোলনে ভূমিকা রাখা নারীদের অবদান ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
হামলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান
রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নারীদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় শুধু নিন্দা নয়, কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
রিজভীর বক্তব্যে সেই বার্তাই উঠে এসেছে—নারীর ওপর হামলা কোনো সাহসিকতার পরিচয় নয়; বরং এটি কাপুরুষতার বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে জুলাইয়ের আন্দোলনে ভূমিকা রাখা নারীদের অবদান ও নিরাপত্তার বিষয়টিও তিনি সামনে এনেছেন।







