নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষকে হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পদায়ন ও বদলি নিয়ে দুদকের অনুসন্ধানে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তথ্যের বিকৃতি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্তে নয়, বরং আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মোট ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করেছিল মন্ত্রণালয়।
সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পছন্দের কর্মস্থলে বদলির মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির আদেশ জারির সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০২৬ সালের মে মাসে ওই পদোন্নতির আদেশ হয়।
এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসিফ মাহমুদ প্রশ্ন করেন, তিনি যখন সরকারের দায়িত্বেই ছিলেন না, তখন কীভাবে ওই পদোন্নতি বা অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত হতে পারেন?
‘দুদকের অনুসন্ধান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’
দুদকের অনুসন্ধানকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হিসেবে অভিহিত করে এনসিপির এই মুখপাত্র অভিযোগ করেন, কমিশন পুনর্গঠনের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুদকের মুখপাত্র গণমাধ্যমকে প্রথমে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার’ কথা জানালেও পরবর্তীতে সাংবাদিকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বক্তব্যটি ‘ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে সেই বক্তব্য সংশোধন না করায় তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আসিফ মাহমুদ।
‘তথ্য যাচাই না করে রাজনৈতিকভাবে দমন করা হচ্ছে’
আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, দায়িত্বের সময়কাল, সরকারি নথি ও আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে যাচাই না করেই তাঁকে একটি রাজনৈতিক মামলার কাঠামোর মধ্যে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালন করার পর তিনি পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে এনসিপিতে যোগ দেন। বর্তমানে দলটির মুখপাত্র হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তাঁকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখতেই দুদকের অনুসন্ধানকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যেতে পারে।







